খাগড়াছড়িতে মাল্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, কমলার চেয়ে সুমিষ্ট ও সু-স্বাদু


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে নতুন উদ্ভাবিত বারি মাল্টা-১ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সবুজ রং-এর এ ফল কমলার চেয়েও সুমিষ্ট ও সু-স্বাদু এবং স্বল্প সময়ে কম খরচে ফলন হওয়ায় এখন সবাই ঝুকে পড়ছে বারি মাল্টা চাষের দিকে।

খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত মাল্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে।

খাগড়াছড়ির প্রতিটি হাট-বাজার এখন বারী মাল্টা-১ ছেয়ে গেছে। অবিকল কমলার মতো দেখতে সাইজে কমলার চেয়ে বড়। রং সবুজ হলেও খুবই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও বিদেশী মাল্টার চেয়ে বেশি।

২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবিত হয় বারি মাল্টা-১ জাতের ফলের । মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে এ ফলটি স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বারি মাল্টার চাষ ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে পাহাড়ের ঢালে ঢালে।

মাল্টা চাষী আশা প্রিয় চাকমা জানান, স্বল্প সময়ে ফলন ও খরচ কম হওয়ায় এখন সবাই বারি মাল্টা চাষের দিকে ঝুকে পড়ছে। তবে সরকারী সহযোগি পেলে এ জেলায় মাল্টা চাষ আরো সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি জানান।

মাল্টা চাষি আবুল হাশেম জানান, তিনি দুই একর পাহাড়ি জমিতে মাল্টা চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। এ বছর প্রায় পাচ টন মাল্টা ধরেছে। কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধরে বিক্রি করছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তরুন ভট্টাচার্য্য জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও জলবায়ু বারি মাল্টা ১ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। বর্তমানে বিদেশ থেকে যে সব মাল্টাগুলো আমদানী হচ্ছে তা দেখতে সুন্দর হলেও খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত মাল্টা তার চেয়ে সু-স্বাদু।

খাগড়াছড়িতে উৎপাদিত মাল্টা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন কি চাহিদা বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব হবে। বারি মাল্টা লাগানোর মাত্র ৩ বছরের মাথায় ফলন দেয়া শুরু হয় এবং ২০ বছর ধরে ফলন দে । মাল্টা চাষের জন্য জায়গা বেশি প্রয়োজন হয়না। একটি পরিপক্ক মাল্টা গাছে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। অন্য ফলের মিশ্র বাগানও করা যায়।

তিনি জানান, গত বছর খাগড়াছড়িতে মাল্টা চাষ ১৮৪ হেক্টরে হলেও চলতি বছর বেড়ে ২৮৪ হেক্টর জমিতে বারী মাল্টা চাষ হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে ১শত হেক্টর বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *