খাগড়াছড়িতে বর্ষণ ও পাহাড় ধ্বসের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলছে পাহাড় কাটা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধ্বসের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলছে পাহাড় কাটা। দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে এ পাহাড় কাটা চললেও প্রশাসন রয়েছে নীরব। আর প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

রোববার (১৮ জুন) সর্বশেষ পাহাড় ধ্বসে খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ৩জন নিহত ও ২জন আহত হলেও এদিন দুপুরে জেলা সদরের শিলাছড়া এলাকায় ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশেই বুলডোজার ব্যবহার করে পাহাড় কাটা হচ্ছে।

স্থানীয় একটি বৌদ্ধ বিহারে সড়ক নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম থেকে চালকসহ বুলডোজারটি ভাড়া করে আনা হয়েছে পাহাড় কাটার জন্য।

গত দশদিন ধরে পাহাড়ের উপর অংশ থেকে মাটি কাটার কারণে সড়কের পাশে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেও ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পাহাড় কাটার কাজ চলছে।

বুলডোজার চালক নজরুল ইসলাম জানান, পাহাড় কাটার জন্য চট্টগ্রাম থেকে বুলডোজারটি আনা হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে মাটি ধ্বসের ঝুঁকি থাকা শর্তেও বিহার কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করতে হচ্ছে।

মাটি কাটার দায়িত্বে থাকা ভিক্ষুর কাছে পাহাড় কাটার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিহারের কাজ করতে কারো অনুমতি লাগে না।

ঘনঘন পাহাড় ধ্বসকে প্রকৃতির প্রতিশোধ হিসেবে মনে করছেন অনেকে। পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিক ভাবে জানানো হলেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের কদমতলী এলাকার বুলবুল আহমেদ জানান, শালবন হরিনাথ পাড়া গ্যাপ এলাকার পাহাড় খেকো শহীদ মিয়া ও জয়নাল মিয়ার নাম উল্লেখ করে এলাকাবাসী গত ১৪ জুন জেলা প্রশাসককে অভিযোগ করি কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। প্রতিনিয়ত তারা পাহাড় কেটেই চলেছে। এতে করে এলাকার ১০-১২ পরিবার পাহাড় ধ্বসের ভয়ে শঙ্কিত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবীদ সমিতির(বেলা) নেটওয়ার্ক সদস্য আবু দাউদ জানান, খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শালবন, কুমিল্লাটিলা, সাতভাইয়া পাড়া, কলাবাগান, সবুজবাগসহ অন্যান্য উপজেলা গুলোতে ব্যাপক ভাবে পাহাড় উজাড় ও মাটি কাটার অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোন ভূমিকা চোখে দেখা যায় না। বর্ষা মৌসুমে লোক দেখানো মাইকিং ও অভিযান চালানো হয়। রৌদ্র উঠলে অভিযানও উধাও হয়ে যায়। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানই পারে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকি কমাতে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, লোকজনকে পাহাড় কাটা থেকে বিরত রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শিলাছড়া এলাকার পাহাড় কাটার ঘটনার কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।