খাগড়াছড়িতে প্রলোভনে পড়ে পাম চাষ করে সর্বস্বান্ত শত শত কৃষক



এইচ এম প্রফুল্ল/ মো. মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া/ মো. শাহজাহান:

প্রলোভনে পড়ে পাম চাষ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন খাগড়াছড়ির শত শত কৃষক। পাম ফল সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন কিংবা বিক্রির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পাম ফল। ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষিরা। উৎপাদিত পাম ফল সংরক্ষণ ও বিপণন করতে না পারায় বাধ্য হয়ে অনেকে পাম গাছ কেটে ফেলছেন।

পাম ফল থেকে তেল নিষ্কাশনের জন্য এক বছর আগে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে একটি মেশিন বসালেও এক ফোটা তেলও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সরকারি দফতরগুলোও এ অসহায় চাষিদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। ফলে ক্ষতিগ্রন্ত পামচাষিরা হতাশার সাগরে ভাসছেন।

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে ঢালে শোভা পাচ্ছে শত শত একর জমিতে পাম গাছ। প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। কিন্তু পাম ফল সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন কিংবা বিক্রির কোনো ব্যবস্থা নেই এ জেলায়।

২০০৭-২০০৮ সালে ফখরুদ্দীন সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় উৎসাহে খাগড়াছড়িতে পাম চাষ শুরু হয়। শত শত কৃষক নিজেদের সব অর্থ ব্যয় করে পাম চাষে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৩-৪ বছরের ব্যবধানে প্রতিটি গাছে পাম ফল আসতে শুরু করে। কিন্তু তাদের জানা ছিল না, ফল সংগ্রহ ও তেল নিষ্কাশনের পদ্ধতি। তাই প্রতিবছর ফলগুলো গাছেই পেকে নষ্ট হয়ে হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি কর্ণফুলী গোল্ডেন পাম লিমিটেড’র পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি ২০০৮ সালে প্রায় ১৫ একর পাহাড়-টিলা ভূমিতে পাম গাছ লাগান। পাম বাগানের পেছনে এ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। লাগানোর তিন বছরের ব্যবধানে গাছে পাম ধরেছে। কিন্তু তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা নেই। এ পর্যন্ত প্রায় একশ টন পাম গাছেই নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারও এগিয়ে আসছে না। ফলে বিশাল বাগান নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন তিনি।

প্রায় এক বছর আগে খাগড়াছড়ি বিসিক শিল্প নগরীতে পাম চাষীদের উদ্যোগে কর্ণফুলী গোল্ডেন পাম লিমিটেড নামে সমিতির মাধ্যমে একটি মেশিন বসালেও এর মাধ্যমে এক ফোটা তেলও উৎপাদন সম্ভব হয়নি। ফলে ঐ কারাখানার শ্রমিকরাও বেতন-ভাতা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

খাগড়াছড়ি কর্ণফুলী গোল্ডেন পাম লিমিটেডের অপর পরিচালক আব্দুর রব বলেন, বাগানের পিছনে ১১ লাখ টাকা খরচ করেছি। বিসিক শিল্প নগরীতে এক বছর আগে আরও ১১ লাখ টাকা খরচ করে একটি মেশিন বসালেও তাতে সফল হইনি। তবে সরকারের সহযোগিতা পেলে পাম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে এমন দাবী করে আব্দুর রব বলেন, পাম ফল থেকে তেল নিষ্কাশনের জন্য মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির সহযোগিতা চাওয়া হলেও কোন সহযোগিতা পাননি তারা।

এখন চীন থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা খরচ করে মেশিন আনার চেষ্টা চলছে। তবে খাগড়াছড়িতে নির্মাণাধীন বিদ্যুতের সাব স্টেশন চালু না হলে এ চেষ্টাও সফল হবে না।

খাগড়াছড়ি কর্ণফুলী গোল্ডেন পাম লিমিটেড’র মেশিন অপারেটর মনির হোসেন বলেন, স্থাপিত মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। ঐ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক সঞ্জিব ত্রিপুরা বলেন, কারখানাটি বন্ধ থাকায় বেতনও অনিয়মিত। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল কাশেম বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় ১৩৫ হেক্টর পাম বাগান রয়েছে। তার মধ্যে ১২৫ হেক্টর বাগান আকারে বড় ও বসতবাড়ীতে অবস্থিত। তিনি আরও বলেন, প্রলোভনে পড়ে কৃষকেরা পাম চাষ করলেও তেল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের জন্য তা গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিশাল পাম বাগানের মালিকরা এখন তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে।

খাগড়াছড়ির হতাশাগ্রস্ত পাম চাষীদের রক্ষায় সরকার এগিয়ে আসবেন এমনি প্রত্যাশা কৃষকদের।

 

সূত্র: পাক্ষিক পার্বত্যনিউজ, বর্ষ ১, সংখ্যা ১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *