খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল মারা গেছেন, এলাকায় উত্তেজনা


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের হামলা আহত ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল মারা গেছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টা জেলার মানিকছড়ি এলাকায় সে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের মিলনপুর এলাকায় তার উপর হামলা হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টেকো চাকমা এ হামলার জন্য মেয়র রফিকুল আলম গ্রুপকে দায়ী করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় মো: রাসেল(১৯) কয়েকজন বন্ধু মিলনপুর ব্রীজের উপর বসে আড্ডা দিচ্ছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৮/১০ সন্ত্রাসী এসে রাসেলকে এলোপাথারী কুপিয়ে পালিয়ে যায়। রাসেল জেলা সদরের কদমতলীর হরিনাথ পাড়ার মোঃ নুর হোসেনের ছেলে। স্থানীয় লোকজন রাসেলকে উদ্ধার করে প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করলে পথেই রাসেল মৃত্যর কুলে ঢলে পড়ে।

ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক শহরে মিছিল বের পার্বত্য চট্টগ্রাম টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারিরা। তারা এ হামলার জন্য মেয়র রফিকুল আলমের অনুসারিদের দায়ী করে গ্রেফতারের দাবী জানান।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়ন ময় ত্রিপুরা জানান, রাসেলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠনো পথে সে মারা যায়।

খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টেকো চাকমা রাসেলকে ৬নং পৌর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য দাবী করে এই ঘটনার জন্য খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের অনুসারীদের দায়ী করেছে। তবে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম এমন অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীল প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগে বিভক্তি দেখা দেয়। সে থেকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিনিয়ত হামলা, মামলা ও সংঘর্ষ লেগেই ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *