খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে ইউপিডিএফ’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়িতে নানা আয়োজনে চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৬ডিসেম্বর)সকালে শহরের স্বনির্ভর এলাকায় নিহত দলীয় নেতাকর্মীদের স্বরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে পুস্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় নেতা সচিব চাকমা, দেবদন্ত চাকমা, নতুন কুমার চাকমা, ইউপিডিএফ এর জেলা সংগঠন মাইকেল চাকমা কেন্দ্রীয় যুবফোরামের সভাপতি অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরুপা চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিনয়ন চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা বক্তব্য রাখেন।

সমাবশে বক্তারা সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, দেশে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আজ চরমে পৌঁছেছে। গুম ও অপহরণের ভয়ে সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবার দাম বৃদ্ধির কারণে শ্রমিক, কৃষক ও মধ্যবিত্তসহ সাধারণ জনগণের জীবন যাপন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।

জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামত উপেক্ষা করে সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যক্তিকে জনগণের সম্পদ লুট ও দুর্নীতি করে অন্য দেশে টাকা পাচার করে দ্বিতীয় নিবাস গড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। ’

সমাবেশে শেসৈ অগ্রসর শিশু কিশোর কেন্দ্রের ব্যানারে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের দিকে আসতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে ফের স্বনির্ভরে ফিরে যায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পন করে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। ঐদিনই প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে শত শত পতাকা উত্তোলন করে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানকে ধিক্কার জানানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। শুরু হয় সন্তু ও প্রসীতের  নেতৃত্বে দুই সংগঠনের আধিপত্য রক্ষার লড়াই।

অপর দিকে ২০০৮ সালে জেএসএস ভেঙ্গে সুধা সিন্দু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস(এমএন) গ্রুপ। শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘাত। কখনো জেএসএস-ইউপিডিএফ আবার কখনো জেএসএস(সন্তু)-জেএসএস(এমএন)। কখনো, কখনো নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে প্রান হারিয়েছে পাহাড়ের অন্তত সাড়ে ৬শ শতাধিক প্রাণোচ্ছল যুবক। এছাড়াও সহস্রাধিক আহত হয়েছে।

১৯ বছর পর চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে প্রসীতের নেতৃত্ব প্রত্যাখান করে তপন কান্তি চাকমা বর্মা-কে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরু-কে সদস্য সচিব করে ইউপিডিএফ’র (গণতান্ত্রিক) নামে পাল্টা সংগঠনের জন্ম হয়। এখন পাহাড়ে চলছে চার পাহাড়ি সংগঠনের সশস্ত্র তৎপরতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *