খরচ না ওঠায় বিপাকে পেকুয়ার ১৫ হাজার লবণচাষি


লবন

এম. জুবাইদ, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ১৫ হাজার কৃষক লবণের উৎপাদন খরচ না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। লবণের অব্যাহত দরপতন আর উৎপাদিত লবণ বিক্রি করতে না পারায় এ আশঙ্কা আরও প্রকট হচ্ছে বলে লবণ চাষীরা জানিয়েছে। পেকুয়া উপজেলার মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী ইউনিয়নে ব্যাপক লবণ চাষ হলেও পেকুয়া সদর ও টইটং ইউনিয়নের কিছু অংশে লবণ চাষাবাদ হয়। পুরো উপজেলায় প্রায় ৮হাজার হেক্টর জমিতে ১৫হাজার কৃষক লবণ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। পর পর ৫মৌসুমে কৃষকরা অব্যাহত লোকসানের শিকার হয়েছে বলে প্রান্তিক লবণ চাষীরা জানিয়েছে।

চাষীদের দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, মগনামা ও উজানটিয়ায় প্রতিকানি লবণ মাঠের লাগিয়ত ১০ থেকে ১৫হাজার টাকা। লবণ উৎপাদনে মজুরী খরচ ১৮হাজার টাকা, পলিথিন ও পানি (সেচ) খরচ ৬হাজার টাকা সহ কানি প্রতি লবণ উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ৩৬হাজার টাকা। স্বাভাবিকভাবে কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার না হলে কানি (৪০শতক) জমিতে লবণ উৎপাদন হয় ৩শ’ মণ। বর্তমানে কৃষকরা লবণের বিক্রি মূল্য মণ প্রতি পাচ্ছে ১শ’ টাকা থেকে ৯৮টাকা। আর উপজেলার রাজাখালীতে লবণ মাঠ লাগিয়ত হচ্ছে ১৮থেকে ২১হাজার টাকা।

কৃষকরা আরো জানিয়েছে, বর্তমন বাজার দর মতে উৎপাদন খরচ তুলতে গেলে তাদের কানি প্রতি লবণ সংগ্রহ হতে হবে কমপক্ষে ৪শ’ মণ। বিশাল একটি ঘাটতি মাথায় নিয়ে বার বার লবণ চাষীরা ঋণের জালে আটকে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমের শেষের দিকে চলে এলেও এখনো পর্যন্ত কানি প্রতি লবণ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২শ মনের মতো। অবশিষ্ট মৌসুম বৃষ্টি আবর্তে না গেলে ঋণের পরিমাণ একটু কমবে আর বৃষ্টির আবর্তে পতিত হলে এঋণের বোঝা আরও ভারি হবে।

কৃষকদের অনেকে মহাজন থেকে মোনাফার চুক্তিতে টাকা নিয়ে মাঠের খরচ নির্বাহ করলেও মহাজনের টাকা তারা পরিশোধ করতে না পারার আশঙ্কায় চরমভাবে উৎকণ্ঠায় রয়েছে। পেকুয়া উপজেলা ভিত্তিক বিসিকের কোন কার্যালয় না থাকায় সরকারী বিধি-বিধান সুযোগ-সুবিধাও পেকুয়ার লবণ চাষীরা পাচ্ছেনা। সরকারের তরফ থেকে লবণ শিল্পকে কেউ দেখভালও করেনা।

এভাবে অব্যাহত দরপতন হলে লবণ চাষ থেকে কৃষকরা মুখফিরিয়ে নিবে বলে মন্তব্য করেন, মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মগনাম ইউনিয়ন লবণচাষী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী।

উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অন্য কোন পেশায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেলে বর্তমানে অব্যাহত লোকসানের শিকার চাষীরা পেশা পরিবর্তন করে ফেলতো। সম্ভাবনার একটি শিল্প সরকারের খেয়ালীপনার করণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *