কৃত্তিকা ত্রিপুরা: শুধুই কি হত্যা? নাকি দীর্ঘমেয়াদী ইস্যু তৈরীর অপচেষ্টা


আজিজ আহমেদ :
কৃত্তিকা ত্রিপুরা-মায়াময় একটি মিষ্টি মুখে হায়নার ছোবল। তার ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী নৃশংসতা সত্যিই ব্যথিত করেছে সবাইকে। ধর্ষণ নিন্দনীয় হলেও পৃথিবীর সব জায়গায় হয়ত কম বেশী হয়ে থাকে। কিন্তু কৃত্তিকা ত্রিপুরার উপর নৃশংসতার মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজাতি সংগঠনগুলো প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তাবাহিনী ও বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও হত্যাসহ স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে দীর্ঘ মেয়াদী ইস্যু সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে লক্ষ্যে করা যায়। উপজাতি সংগঠনগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় পাহাড়ী এবং বাঙ্গালীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় থাকুক এমনটি চান না বলে এ জাতীয় ঘটনাগুলোকে কৌশলে তাদের আন্দোলনের ইস্যু হিসাবে বিবেচনা করে থাকে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন।

প্রতিবছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস, আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং অন্যান্য দিবসসমূহকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে ইস্যু হিসাবে ব্যবহার করে উপজাতি সংগঠনের নানা কর্মসূচী পালন করার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৬ সালে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে কল্পনা চাকমা অপহরণের বিষয়টি অপহরণ নাকি অন্তর্ধান তা আজও সুস্পষ্টভাবে বলা না গেলেও উপজাতি সংগঠনগুলো এটিকে দীর্ঘ মেয়াদী ইস্যু হিসাবে আন্দোলনের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসাবে বিগত কয়েক বছর পূর্বে খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলার কমলছড়িতে সবিতা চাকমা হত্যা এবং ২০১৭ সালে খাগড়াছড়ি শহরস্থ মহাজনপাড়ায় ইতি চাকমার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে উল্লেখ করা যেতে পারে। উপজাতি সংগঠনগুলো এই দুটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচীতে বাঙ্গালীদের দোষারোপ করে, পরবর্তীতে পুলিশ কর্তৃক তদন্তে আঞ্চলিক উপজাতি সংগঠনের সংশ্লিট ব্যক্তিবর্গের দ্বারা হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার তথ্য পাবার পর তাদের ইস্যু সৃষ্টির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। পাহাড়ীরাও নীরব হয়ে যায়, তারা আর কোনো দাবী দাওয়া তোলেনি। অপরাধী ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের হোক না কেন তাকে শাস্তি প্রদান করা হোক এটি সকলেই প্রত্যাশা করেন।

কৃত্তিকা ত্রিপুরা হত্যার মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ফের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার চাকমা সম্প্রদায়ের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে একই সম্প্রদায়ের বড়পেটা চাকমা নামে এক বখাটে কর্তৃক।

২আগস্ট সন্ধ্যায় দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষক পলাতক।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পিতা ললিত চাকমা জানায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মেয়ে ছাগল খুঁজতে গেলে বখাটে বড়পেটা চাকমা একা পেয়ে তার মেয়েকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ধস্তাধস্তির সময় শিশুটি মাথায় আঘাত পায়। শিশুটির চিৎকার শুনে লোকজন এগিয়ে গেলে ধর্ষক পালিয়ে যায়।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার পর পরিস্কার বলা যাবে।

উল্লেখ্য, হাসপাতালে ভর্তির সময় মেয়েটির পিতা ধর্ষণের কথা বললেও পরদিন সকালে তিনি ও তার মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে ধর্ষণ চেষ্টা হয়েছে বলে স্বীকার করেন। ধারণা করা হয়, উপজাতীয় সমাজপতি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের চাপের মুখে মেয়েটি ও তার পিতা ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। প্রমাণ স্বরূপ কাউখালীর একই দিনে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার দৃষ্টান্ত দেয়া যায়।

রাঙামাটির কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের বেতছড়ি উপজাতীয় পাড়ায় ১৬ বছরের এক চাকমা কিশোরী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২ আগস্ট বিকাল ৫টায় ঐ কিশোরীর বাড়ীর পার্শ্বে তারই প্রতিবেশী মৃত সবিক্কা চাকমার ছেলে রিপন চাকমা (২৫) কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতার বাবা মা রাতে থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলেও স্থানীয় কার্বারী, মাতাব্বর ও পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপের ভয়ভীতির কারণে মামলা না করেই বাড়ী ফিরে আসেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা সবিচন্দ্র চাকমা ও মা পূর্ণিমা দেবীর সাথে কথা বললে তারা জানায়, গত ২ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৫টায় তাদের একমাত্র মেয়ে কাউখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ১৬ বষয় বয়সী অন্তিকা চাকমা (ছদ্ম নাম), সুপারী বিক্রি করতে পার্শ্ববর্তী বাড়ীতে যায়। সেখান থেকে বাড়ী ফেরার পথে একই এলাকার মৃত সবিক্কা চাকমার ছেলে রিপন চাকমা (২৫) জোরপূর্বক তাদের একমাত্র মেয়েকে মুখে কাপড় চেপে ধরে পাশ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে।

সন্ধ্যায় তাদের মেয়ে অন্তিকা চাকমা (ছদ্ম নাম), বাড়ী ফিরে কান্না কাটি করতে থাকে এবং বিষয়টি বাবা মা বলে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টায় দূর্গম পাহাড় অতিক্রম করে মেয়েকে নিয়ে হাসপতালে ছুটে আসেন বাবা সবিচন্দ্র চাকমা ও মা পুর্ণিমা চাকমা। কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোঃ ইমরান হোসেন ধর্ষিতার স্বীকারোক্তি মোতাবেক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

কিন্তু মামলা থেকে বিরত রাখা ও ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্থানীয় কার্বারী জয়ধন চাকমা ও এলাকার মাতব্বর হিসেবে পরিচিত কার্যা চাকমা। তারা ধর্ষিতার বাবা মাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার কথা বলে রাতেই এলাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যান।

স্থানীয়ভাবে কি বিচার করা হবে জানতে চাইলে জবাবে ধর্ষিতার বাবা জানান, সামাজিক রীতি অনুসারে ধর্ষককে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ধর্ষিতাকে একটি শুকর প্রদান করার মধ্যেমেই এমন জঘন্য কাজের বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে তিনি জানান।

কিশোরীর বাবা জানান, সামাজিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মামলা মোকাদ্দমা করতে গেলে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হবে এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে তিনি জানান, যত হুমকিই আসুক সামাজিক প্রথার নামে এমন অন্যায় আমরা মেনে নেব না। আমরা ন্যায় বিচার চাই এবং প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজাতীয় সমাজে সামাজিক বিচারের নামে এমন প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যেখানে কেউ ধর্ষিতা হলে ধর্ষককে ধর্ষণের জন্য একটি শুকর জরিমানা করা হয়। এই শুকর জবাই করে তার রক্ত দিয়ে ধর্ষিতাকে গোসল করিয়ে তাকে পবিত্র করানো হয়। একই সাথে ওই রক্ত পাড়ায় ছিটিয়ে পাড়া পবিত্র করা হয়। জবাই করা শুকর রান্না করে সমাজের গণ্যমান্যদের খাওয়ানো হয়।

এদিকে ঐ এলাকায় গত এক বছরে পাহাড়ী যুবকদের দ্বারা অর্ধ ডজন ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও বেত্রাঘাত এবং শুকর দানের মাধ্যমে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে বলে জানালেন ঐ কিশোরীর বাবা সবিচন্দ্র চাকমা।

ফলে লাই পেয়ে পাহাড়ে উপজাতীয় যুবকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের মত অহরহ ঘটনা ঘটলেও সশস্ত্র গ্রুপ ও স্থানীয় কার্বারীদের চাপে তা প্রকাশ করতে সাহস পায় না ধর্ষিতা ও তার পরিবার।

উপরের দুইটি ঘটনার কোনোটিতে পাহাড়ী কোনো সংগঠন, এর নেতৃবৃন্দ, সমাজপতি, সুশীল সমাজ কাউকেই বিচারের দাবীতে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে এমন কোনা ঘটনা পাহাড়ে ঘটেছে বলে মনেই হয় না। এর কারণ এ দুটি ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধী পাহাড়ী। এভাবেই পাহাড়ে বিচারের নামে, মানবাধিকারের নামে চলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।

গত ২৯ জুলাই ২০১৮ তারিখে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার নয়মাইল ত্রিপুরাপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী কৃত্তিকা ত্রিপুরা হত্যাকান্ডের বিষয়ঢি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় অনেকের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। পিতৃহারা এ মেয়েটি স্কুল থেকে টিফিনে বাড়িতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়। তার মা জুম চাষের কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুজি করে রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাড়ি হতে প্রায় ৬০০ গজ দূরে তার মৃতদেহ খুঁজে পায়। মেয়েটিকে ধর্ষণের পর গলা এবং কোমরের পিছনে কুপিয়ে ও একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে, পায়ুপথে বাশেঁর কঞ্চি ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়। এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সভ্যতার এ যুগে ঘটতে পারে তা কল্পনা করলেও যে কোন ব্যক্তির শরীর আঁতকে উঠবে। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চারজন বাঙ্গালীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা এখনো এ ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেয়নি। একই সাথে সন্দেহভাজন হিসাবে উক্ত মেয়ের মামা বিভুতী রঞ্জন ত্রিপুরাকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এ ঘটনায় অপরাধী যেই হোক না কেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এটি সকলের প্রত্যাশা। পিতাহারা এ উপজাতি মেয়েটি আর কখনো তার মায়ের বুকে ফিরে আসবে না, এটি যেমন সত্য তেমনি জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক সেজন্য প্রশাসন নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে সকলেই তা আশা করে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি পাহাড়ী সংগঠন কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মানববন্ধনসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে কোন না কোন ঘটনাকে বেছে নিয়ে উপজাতি আঞ্চলিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্বার্থান্বেষী বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবীগণ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় টকশোতে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসাবে উপস্থাপনা করে থাকেন। স্বার্থানেষী উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ তাদের সুবিধা ও অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য বিশেষ বিশেষ দিনগুলোকে এই জাতীয় ইস্যু উপস্থাপন করতে সচেষ্ট থাকেন। কৃত্তিকা ত্রিপুরা অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়েছে, অপরদিকে তার মা তাকে হারিয়ে শুন্য বুকে জীবনের গ্লানি ও শোক বয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা আর কোন মায়ের বুক এভাবে খালি হোক এবং পৃথিবীর বুক থেকে একটি স্বপ্ন হারিয়ে যাক তা কখনোই কামনা করি না।

উক্ত হত্যাকাণ্ডটির সাথে বাঙ্গালীরা জড়িত এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। থাকলেও তারা কোন মহলের ইস্যু সৃষ্টির মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে, এই ধরণের প্রেক্ষাপটে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি সংগঠনগুলো অত্যন্ত কৌশল অবলম্বনপূর্বক সক্রিয় থাকে বিধায় এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জনমনে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে। কৃত্তিকা ত্রিপুরার হত্যাকান্ডটি শুধুই কি হত্যা?

জনমনে প্রশ্ন, বাঙ্গালীদের মধ্যে যাদের জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে, তারা মূলত পেশায় ড্রাইভার। কৃত্তিকার মামা মদের ব্যবসা করেন। ঘটনার দিন ঐ ড্রাইভারদের মদ খেতে দেখা গিয়েছে। ঐ এলাকায় সকলের সন্দেহ শুধু বাঙ্গালীদের দিকে। স্বার্থান্বেষী মহল হয়ত এটাই চাইছিল। প্রশাসনের দৃষ্টি এখন শুধু বাঙ্গালীদের দিকে, অন্যদিকে আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে গরম মুখরোচক আলোচনার একটি বিষয়বস্তু একেবারেই প্রস্তুত। কিন্তু একবারও আমরা ভেবেছি, বাঙ্গালী ঐ ড্রাইভারদের কি স্বার্থ আছে ঐ নৃশংসতা করার। যদি ধরেও নিই ধর্ষণ হয়ত তারা করতেও পারে, হতে পারে ধরা পড়ে যাবার ভয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে তারা, কিন্তু ধর্ষণ পরবর্তী ঐ নৃশংসতা কেন? এই নৃশংসতা দেশে বিদেশে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণে উৎসাহ যোগাবে। আদিবাসী দিবসের আলোচনা, জোরেসোরে করা যাবে, এই কি? কৃত্তিকা ধর্ষণ ও হত্যার নিন্দার সাথে সাথে আলোচিত হবার জন্য ঐ নৃশংসতা পরিকল্পনাকারীদের ধিক্কার জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *