কুতুবদিয়ায় রস্ক প্রকল্পে ঝরে পড়া শিশুদের অর্থ আত্মসাৎ


 

 

কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় রস্ক প্রকল্পে ঝরে পড়া শিশুদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আনন্দ স্কুলের শিক্ষক ও প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর (টিসি) এর  বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে গেল ১০ মার্চ পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকরা রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন(রস্ক) প্রকল্প ফেইজ -২ এর পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলোতে আলোকিত করার লক্ষে রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন(রস্ক) প্রকল্প ফেইজ-২ এর পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধিনে বাস্তবায়িত আনন্দ স্কুল কার্যক্রম হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলায় ২০১৩ সালে ৩৩টি আনন্দ স্কুল চালু করেন। পরবর্তিতে ২০১৫ সালে আরও ৫৯টি আনন্দ স্কুল চালু করেন এবং ফলাফলও অনেকটা ভাল আসে।

২০১৭ সালে কুতুবদিয়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩৩টি স্কুল থেকে ৪১৫জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এ সব পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে ৪১৫জন পরীক্ষার্থীর জন্য ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা প্রকল্প অফিস থেকে পাঠানো হয়।

নীতিমালায় জনপ্রতি ২শত টাকা অফিস খরচ বাবদ কেটে রেখে ৮শত টাকা পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার কথা থাকলেও কোন পরীক্ষার্থী যাতায়াত ভাড়ার এক টাকাও পায়নি। চাঁদের ঘোনা আনন্দ স্কুলের( আইডি নং-২০২২৪৫০০১) সমাপনী পরীক্ষার্থী মো. ইউচুফ, হায়দার আলী সিকদার পাড়া আনন্দ  স্কুলের (আইডি নং-২০২২৪৫০০২) সমাপনী পরীক্ষার্থী মেহেদী হোসনা, একই স্কুলের সেলিনা অকতার, আকবর বলী পাড়া আনন্দ স্কুলের (আইডি নং ২০২২৪৫০০৫), নয়াকাটা আনন্দ স্কুলের (আইডি নং ২০২২৪৫০০৬) পরীক্ষার্থী রোজিনা আক্তার, ছমদিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে নিজ উদ্যোগে রিক্সা ভাড়া করে পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের জন্য যাতায়াতের ভাড়ার কথা জানানোই হয়নি।

কুতুবদিয়া হাই স্কুল কেন্দ্রে চাঁন মিয়া পাড়া আনন্দ স্কুলের(আইডি নং ২০২২৪৫০৪৯) পরীক্ষার্থী তানজিনা আক্তার বলে, প্রত্যেক পরীক্ষায় কেন্দ্রে যাতায়াতে আমার বাবা রিক্সা ভাড়া করে দিয়েছেন। সে কোন ভাড়া পায়নি বলে জানায়। কৈয়ারবিল আইডিয়াল হাই স্কুল কেন্দ্রে জিএম আনন্দ স্কুলের (আইডি নং ২০২২৪৫০২৯) পরীক্ষার্থী মো. শাহরিয়া বলেন, আমি দরিদ্র পরিবারের বলে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে গিয়েছি। কখনো পৌঁছাতে দেরীও হয়েছে। তবে যাতায়াতের ভাড়ার কোন কথা শোনেনি বলে সে জানায়।

এ ব্যাপারে মুরালিয়া আনন্দ স্কুলের পরীক্ষার্থী আইয়ুবুল ইসলাম মাহির অভিভাবক আয়েশা ছিদ্দিকা জানান, কেন্দ্রে যাতায়াতের ভাড়া আসার ব্যাপারে শিক্ষক তাকে জানায়নি। নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া দিয়েছেন প্রতিদিন। উত্তর ধূরুং আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়ার আনন্দ স্কুলের পরীক্ষার্থী মো. ছোটন এর অভিভাবক মো. কালু জানান, পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রে যাতায়াতের গাড়ি ভাড়া এসেছে-তা কেউ জানায়নি। নিজেরাই খরচ করে কেন্দ্রে গেছে প্রতিদিন।

এ ব্যাপারে আনন্দ স্কুলের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ভাড়া বাবদ জনপ্রতি ৮০০টাকা করে মোট ৩ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা স্ব স্ব শিক্ষকদের দেয়া হয়েছে। তারা অভিভাবক বা পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে তা প্রদান করেছেন বলে জানান। তবে শিক্ষার্থীদেরকে যাতায়াত ভাতা প্রদানের স্বাক্ষরের কপি অফিসে নেই কেন-এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের অর্থ না পেলে সে ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, এখন প্রকল্প আপাতত বন্ধ। অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোথায় পাবো বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চৌধুরী বলেন, এ ধরণের অভিযোগ হয়ে থাকলে তিনি খতিয়ে দেখবেন বলেও জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *