কুতুবদিয়ায় এপ্রিল-মে যেন পানি ডুবিতে শিশু মৃত্যুর মাস


কুতুবদিয়া প্রতিনিধি:

কুতুবদিয়ায় এপ্রিল-মে  আতঙ্কের মাস। পানি ডুবিতে শিশু মৃত্যুর হার এ দু‘মাসেই বেশি। চলতি মে মাসের প্রথম থেকে ৫ দিনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে পুকুরে ডুবে।

গেল এপ্রিল মাসেও মারা গেছে ৫ জন। আর গত বছর ছিল ভয়াবহ পানি ডুবিতে শিশু মৃত্যুর বছর। হাসপাতাল ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১৭ সালে ৮০টি শিশু মৃত্যুবরণ করে পানি ডুবির ঘটনায়। এর মধ্যে শুধু এপ্রিল মাসেই ১০ শিশু মৃত্যুবরণ করে পুকুর কিংবা ডোবায় বা খালে ডুবে। এই দশ শিশুরা ছিল ৪ এপ্রিল উত্তর ধূরুং ইউনিয়নে মামুন (৬), ৬ এপ্রিল দক্ষিণ ধূরুং এর সুমাইয়া (৪), ৯ এপ্রিল ফের উত্তর ধূরুং এ  একজন, ১৩ এপ্রিল বড়ঘোপ আজম কলোনীতে তানজিন(১০) ও দক্ষিণ ধূরুং এ নাঈমা (৬)১৫ এপ্রিল লেমশীখালীতে এহছান (৪), ১৭ এপ্রিল দক্ষিণ ধূরুং এ হীরামণি (২), ২০ এপ্রিল আলী আকবর হিলে আবিদা (৪), ২৫ এপ্রিল কৈয়ারবিলে তাসমিন ( ১৮ মাস), ২৯ এপ্রিল দক্ষিণ ধুরুং এ আরও একজন শিশু মারা যায়।

চলতি মে মাসে গত পাঁচ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এক শিশু আহত হয়ে পরে বেঁচে যায়। ১ এপ্রিল উত্তর ধূরুং নয়া কাটায় জুনায়েদ (৬), ৬ এপ্রিল দক্ষিণ ধূরুং এ সুমাইয়া (৪), একই ইউনিয়নে ৩এপ্রিল মানিক (৫), ৫ এপ্রিল আলী আকবর ডেইলে অর্ক (৫), ৪ এপ্রিল লেমশীখালীতে মনি (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া  গত মঙ্গলবারও দক্ষিণ ধূরুং পেঁচার পাড়ায় পুকুরে ডুবে নাঈমা নামের দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দু‘সপ্তায় ৬ শিশুর প্রাণহাণী হয়েছে।

বছরের বর্ষাকাল শুরু হতে না হতেই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানি ডুবির ঘটনা বেড়েই চলছে। তুলনামূলক ভাবে এপ্রিল ও মে মাসেই পানি ডুবির ঘটনা বেশি। শিশু মৃত্যুর হার কমাতে নানা কর্মসূচি থাকলেও পানিতে ডুবে অত্যধিক হারে শিশুর মৃত্যু ঘটলেও এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারো। নেই কোন সচেতনামূলক প্রচার, সভা, সেমিনার। বিভিন্ন ব্যক্তি এই পানি ডুবির ঘটনায় শিশু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ মনে করেন মা-বাবা অভিভাবকদের সচেতনার ঘাটতিকেই দায়ী করেন।

হাসপাতালের ইপিআই টেকনিশিয়ান ছৈয়দ কামরুল হাসান বলেন, মা বাবা অথবা অভিভাবকদের সচেতনার অভাবেই উপজেলায় পানি ডুবির ঘটনার মূল কারণ। এ জন্যে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে পানি ডুবির ঘটনা প্রতিরোধে সমাবেশ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলার প্রবীণ ডা. মোহাম্মদ নুরুল আলম কুতুবী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ পরিবারে শিশুদের নজরে রাখার প্রবণতা কম। শিশুদের খেলা করতে রেখে মা-বাবা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় পানি ডুবির ঘটনা বাড়ছে। পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পানি ডুবিতে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে প্রথমেই মা-বাবা সহ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে শিশুদের উপর। প্রতিটি পুকুরের চার পাশে নিরাপত্তা বেড়া দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে সহজেই শিশুরা খেলার ছলে পুকুরে যেতে না পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *