কারামুক্ত মাদক সম্রাটকে রক্ষা করল দুই নেত্রী


কক্সবাজার প্রতিনিধি:

টেকনাফের ইয়াবা সম্রাট ডজন মামলার আসামী নুরুল হক ভুট্টোর ভাই ইয়াবা গডফাদার নুর মোহাম্মদ মংগ্রী জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজার কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পৃথক একটি মামলায় ওই সময় তাকে কারা ফটকে গ্রেফতারের জন্য যায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম।

এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তোয়াক্কা না করে কক্সবাজার শহরের দুই নেত্রী ওই ইয়াবা গডফাদারকে নিজেদের নোয়া গাড়িতে তুলে নেয়।

আর অসহায় হয়ে পরিস্থিতি অবলোকন করে গ্রেফ্তার করতে যাওয়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

অভিযোগ ওঠেছে টেকনাফের ইয়াবা গডফাদার ভুট্টোর কাছে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ হয়ে কক্সবাজার জেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী আয়েশা সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদিকা জেলা পরিষদ সদস্য লুনা এই দুই নেত্রী ইয়াবা গডফাদার নুর মোহাম্মদকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়েছে। এই বিষয়ে যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী আয়েশা সিরাজ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন-আমি এ ঘটনার কিছুই জানিনা ।

তবে ওই মামলার আসামির আইনজীবি এড. বদিউল আলম জামিননামা নিয়ে কারাগারে গিয়েছে এটা জানি।

কক্সবাজার জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ জানান, টেকনাফের নাজির পাড়ার এজাহার মিয়ার পুত্র নুরুল হক ভুট্টো ও তার ভাই নুর মোহাম্মদ ইয়াবার মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিল।

ভুট্টোর বিরুদ্ধে ৮টি মামলা ও তার ভাই নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ২/৩টি মামলা ছিল। দুই ভাইয়ের সব মামলার জামিন নামা ১৯ এপ্রিল কক্সবাজার কারাগারে পৌঁছে।

নুর মোহাম্মদের সমস্ত কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। আর নুরুল হক ভুট্টোর একটি মামলায় পিডব্লিউ থাকার কারণে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, মাদক সম্রাটদের যদি সরকার দলীয় মহিলা নেত্রীরা জেল গেইট থেকে নিজেদের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায় তাহলে কিভাবে অপরাধ রোধ করা যাবে। ওই সময় তাকে আটক করতে গেলে নেত্রীদের সাথে তর্কাতর্কি হত। যা খুবই লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সরকার দলীয় একজন নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশেষ করে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ হরদম লেগেই থাকে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্তকর্তা জানান, এ রকম ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। কিভাবে একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তা ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। এটা পুলিশের উপর মহলকে জানানো হয়েছে। অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *