আওয়ামী লীগ সরকার জুম্ম জনগণকে ভাতে ও পানিতে মারার ষড়যন্ত্র করছে


Naniarchar Gedaring Pic_1

স্টাফ রিপোর্টার : 

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জুম্ম জনগণকে ভাতে ও পানিতে মারার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সেজন্য সরকার কাপ্তাই লেকের পানি যথাসময়ে না কমিয়ে জলেভাসা জমির চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে দাবি করে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। সোমবার রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা সদরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এ দাবি জানান ওই এলাকার স্থানীয় কৃষকরা।

সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে চার দফা সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন তারা।

দুপুর আড়াইটার দিকে স্থানীয় জলেভাসা জমির কৃষকদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে একটি মিছিল নানিয়ারচর বাজার ঘুরে এসে আবার উপজেলা মাঠেে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।

নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিনয় কৃঞ্চ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক্ষং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুশীল জীবন চাকমা, বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রমোদ বিকাশ খীসা, ইউপিডিএফ সমর্থনপুষ্ট ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের থানা শাখার সভাপতি রিপন চাকমা, নানিয়ারচর ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার সেন্ট্রো চাকমা ও কৃষক নেতা চিত্ত রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জুম্ম জনগণকে ভাতে ও পানিতে মারার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সেজন্য কাপ্তাই লেকের পানি যথাসময়ে না কমিয়ে জলেভাসা জমির চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে সরকার। তারা অবিলম্বে কাপ্তাই লেকের পানি কমিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় কাপ্তাই বাঁধ ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হবে।

বক্তারা বলেন, ১৯৬০ সালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষযোগ্য ধান্য জমি তলিয়ে গেছে। এতে উদ্বাস্তু হয়েছেন লাখের অধিক স্থানীয় পরিবার, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনসহ স্থানীয় লোকজনকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। বাঁধ নির্মাণের দীর্ঘ ৫৬ বছরেও রাঙামাটি জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পোঁছায়নি।

তারা বলেন, প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানি কমালে জলেভাসা জমিতে ধান ও শস্য বীজ রোপন করে বোরো চাষাবাদের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন স্থানীয় লোকজন। নভেম্বর মাস হতে পানি কমানোর কথা থাকলেও চলতি মৌসুমে আজ পর্যন্ত কাপ্তাই লেকের পানি কমাচ্ছে না সরকার। ফলে আজ পর্যন্ত আমরা জলেভাসা জমিতে চাষাবাদ শুরু করতে পারিনি। চাষাবাদ করতে না পারলে জলেভাসা জমির ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পাহাড়ি মানুষকে না খেয়ে মরতে হবে। এ সময় তারা কাপ্তাই লেকের পানি বাড়ানো-কমানো নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *