কাপ্তাইয়ের দুর্গম পাহাড়ে ৭’শ বাঙালীর মানবেতর জীবন যাপন, ৫৬বছরেও মেলেনি স্থায়ী সনদ


GB 1

কবির হোসেন: কাপ্তাই হ্রদের পাশে দুর্গম পাহাড়ী এলাকার একটি দ্বীপ মগবান ইউনিয়নের গবঘোনার ৭’শ বাঙালী দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে নিজ দেশে পরবাসী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। খাস জায়গা আছে, বিদ্যুতের খুঁটি আছে, সংযোগ নেই, ভোটার আছে কিন্তু স্থায়ী জাতীয় সনদ নেই। একটি মহল বহু বছর পর বাঙালীদের জায়গা নিজেদের দাবি করে উচ্ছেদের পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে উক্ত এলাকায় গিয়ে বাঙালীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বহু বছর ধরে সেখানে বাস করছেন। তাদের সাথে কথা বলে অনেক তথ্য ও তাদের অসহায় জীবন চিত্র সম্পর্কে জানা যায়।

এই এলাকার বাসিন্দা জহির, নুর ইসলাম, মাহাবুবুল আলম ও সুর আহমদ বলেন, আমরা ১৯৬০ সাল থেকে জীবতলী এলাকায় বসবাস করে আসছি। কিন্তু ১৯৮৮ সালে হঠাৎ করে শান্তিুবাহিনী আমাদের ১৩ বাঙালীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। এরপর তৎকালীন কাপ্তাই সেনা জোন ২১ বেঙল জীবতলী এলাকায় বাঙালীদের ৮৬ পরিবারকে সেনা ক্যাম্পের পাশ্ববর্তী এলাকায় পুনর্বাসন করে। পরবর্তী সেনা বাহিনীর জায়গা প্রয়োজন হলে বাঙালীদের মগবান ইউনিয়নের গবঘোনা এলাকায় বসবাসের সুযোগ করে দেয়া হয় এবং খাস জায়গা কোথায় আছে তা তদন্ত করে বের করতে হেডম্যান, কারবারীদের নির্দেশ দেয়া হয়।

তদন্তে উঠে আসে ১১৫নং এর ২নং মগবান ইউনিয়নের মৌজার অধিক পরিমাণ খাস জায়গা রয়েছে। তৎকালীন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক হাসানসহ ১৯৯২ সালে ৫’শ ২৫ একর এর অধিক খাস জমি বাঙালীদের বসবাসের জন্য প্রদান করা হয় বলে উল্লেখ করে।

সেই থেকে দুইশত পরিবার প্রায় ৭শ’ বাঙালী দীর্ঘ ২৪বছর ধরে বসবাস করে আসছে। বসবাসের সুযোগে বাঙালীদের এলাকায় একটি সেনা ক্যাম্পও বিদ্যমান রয়েছে। বাঙালীরা বসবাসের জন্য মসজিদ, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোকানপাট, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন প্রযোজনীয় জিনিস স্থাপন করে। জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রধান কাজ কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা, বিক্রয়, নৌকা, সাম্পান ও ইঞ্জিন চালিত বোটে যাত্রী পরিবহন করা হয়।

এলাকার লোকজন দু:খ করে বলেন, গবঘোনায় প্রতিদিন পাহাড়ী-বাঙালীর হাট বসত, বিদ্যালয়ে পাহাড়ী শিক্ষার্থী লেখাপড় করত। সকলের মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি, মিলন মেলা ছিল। হঠাৎ করে পাহাড়ীরা দীর্ঘ ২৪বছর পর আমাদের বসবাসরত খাস জায়গা তাদের নিজেদের বলে দাবি করে উচ্ছেদের পায়তারা করছে। বিদ্যালয় হতে তাদের সন্তানদের নিয়ে গেছে। বাজারে আসা বর্জন করেছে। এমনকি বাঙালীদের সরকারি কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার জন্য বাঁধা প্রদান করছে বলে জানান। এ ব্যাপারটি রাঙ্গামাটি সদর প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এলাকার ইউপি সদস্য মো. নাছির বলেন, আমরা কাপ্তাই হ্রদের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একটি দ্বীপের মধ্যে বসবাস করার শর্তে সরকারি সাহায্যে সহযোগিতা যতটুকু সম্ভব পেয়েছি এখনো পাচ্ছি। তবে দু:খের বিষয় হল নিজ দেশে পরবাসি হয়ে বসবাস করছি। রাঙ্গামাটি সদরে ৬টি ইউনিয়ন আছে কোনো ইউনিয়নে জাতীয় সনদে স্থায়ী/অস্থায়ীর কোনো কলম লেখা নেই। শুধু আমাদের ইউনিয়নে কোন বাঙালী জাতীয় সনদ নিতে গেলে তাঁকে অস্থায়ী সনদ প্রদান করা হয়। যা জাতীর জন্য বৈষম্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া সরকার সকলকে বিদ্যুতের খুঁটি দিয়ে সংযোগ দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে কিন্তু আমাদের কাছে বিদ্যুৎ সংযোগর জন্য মিটার ক্রয় করাসহ যা যা বলেছে আমরা সব কিছু করেছি কিন্তু রহস্যজনক কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ হতে বিচ্ছিন্ন রয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা শিক্ষার আলো হতে দুরে রয়েছে। জাতীয় ও স্থানীয় ভোটের জন্য সবাই আসে কিন্তু ভোট নেওয়া শেষ হলে আমাদের দুর্গম বাঙালীদের দিকে আর কেউ ফিরে তাকায়না বলে উল্লেখ করেন।

সর্বশেষে এ ব্যাপারে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামানা করেন গবঘোনা বাসি।

image_pdfimage_print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *