কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিষিদ্ধ করেছে জেএসএস


Dawat Card

আরিফুল হক মাহবুব, কাউখালী:

তিন পার্বত্য জেলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের অতিথি করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য জনসংহতি সমিতি। রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

গত বছরও যেসকল বৌদ্ধ বিহারের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নেতারা প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, এবার সেসকল বিহারের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্রে সরকারী দলের নেতাদের নাম দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জেএসএস’র নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।

তিন পার্বত্য জেলায় ৩০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে জনসংহতি সমিতির রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় এ উৎসব পালনে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান পালনে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বিহারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। বিশেষ করে জেএসএস অধ্যুষিত এলাকার বৌদ্ধ বিহারগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

কাউখালী উপজেলার বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ বিহার ঘুরে ও বিহারাধ্যক্ষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩০ অক্টোবর থেকে তিন পার্বত্য জেলার অধিকাংশ বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপনের কথা রয়েছে। সে অনুসারে কাউখালী উপজেলার ১২৮টি ছোট বড় বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে অন্তত অর্ধশত বিহারে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান প্রস্তুতি গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট বিহার কমিটি। প্রতি বছর এসব অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বৌদ্ধ ধর্মগুরুরা ছাড়াও প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির তালিকায় থাকেন সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপি এবং সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম। আমিন্ত্রত অতিথিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিহারগুলো আর্থিক সাহায্য, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে।

12182129_1506266809698673_1694911928_n

কিন্তু এবার ক্ষমতাসীনদলের সাথে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)’র রাজনৈতিক টানাপোড়ন ও জনসম্পৃক্ততাবিহীন অসহযোগ আন্দোলনের কারণে তিন পার্বত্য জেলায় জেএসএস নিয়ন্ত্রিত এলাকার বৌদ্ধ বিহারগুলোতে সরকার দলীয় মন্ত্রী, সাংসদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিষদে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সদস্যদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেএসএস। ফলে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বিহারের অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির কর্তাব্যক্তিরা। জেএসএস’র পক্ষ থেকে তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি বিহারের বিহারাধ্যক্ষদের ডেকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ছাপানোর ক্ষেত্রে জেএসএস কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা অনুসরণ করার কথা বলা হয়।

এছাড়াও এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে অনুষ্ঠান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও পরিস্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছে। ফলে স্ব-স্ব বিহারগুলোতে এবার সরকারী দলের কোন কর্তা ব্যক্তি উপস্থিত থাকছেন না।

এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৌদ্ধ বিহারের দায়িত্বে থাকা অনেক ভিক্ষু। নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাউখালী উপজেলার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, এসব করে লাভ কি? জেএসএস নেতারা এসি কক্ষে বসে সরকারী সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন, সরকারী প্রটোকল গ্রহণ করছেন। আবার সরকারের বিরুদ্ধে নাম সর্বস্ব আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মতে, জেএসএস আন্দোলন করছে ভাল কথা, কিন্তু ধর্মীয় বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করার কারণে সংশ্লিষ্ট বিহারগুলোর উন্নয়ন কর্মকান্ড বাঁধার সম্মুখীন হবে, ঐতিহ্য হারাবে কঠিন চীবর দান উৎসব। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করায় তারা ক্ষুদ্ধ।

এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পার্বত্যনিউজকে জানান, আমরা অফিসিয়ালি এ ধরণের কোন নির্দেশ দিইনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন কোন এলাকার মানুষের পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হলে আমাদের করার কিছু নেই।

 এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নাই। সংশ্লিষ্ট বিহারগুলো থেকেও এ ধরণের কোন তথ্য আমাদেরকে জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *