কক্সবাজারে রিটেইনড হিট কুকার: শীতকালে খেতে হবেনা আর ঠাণ্ডা খাবার!


unnamed-4-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শীতকালে আর ঠান্ডার খাবার খেতে হবেনা! আশ্চার্য্য হচ্ছেন? আশ্চার্য্য হবার কিছুই নেই। রান্না করা খাবার ৯ থেকে ১০ঘন্টা পর্যন্ত গরম রাখবে রিটেইনড হিট কুকার। পরিবেশ রক্ষার কাজ নিয়ে এগিয়ে চলা ‘ক্রেল’র এ হিট কুকারটি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমাদের দেশে শতকরা ৪২ শতাংশ পরিবার জ্বালানীর জন্য গাছপালার উপর নির্ভরশীল। প্রতিটি পরিবার গড়ে বছরে প্রায় ৪.২৫ টন জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করে। ৪০ ভাগ জ্বালানির যোগান আসে বসতবাড়ির নিজস্ব বন থেকে এবং অবশিষ্ট অংশ আসে বনায়ন থেকে।

কক্সবাজার এলাকার চিত্র একটু ভিন্ন। এ জেলার আয়তন ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিমি. এবং এর মধ্যে ৯৪০.৫৮ বর্গ কিমি. হচ্ছে বনভূমি। মাত্র ১৫৫১.২৮ বর্গ কিমি. এলাকায় ২২,৮৯,৯৯০ লোকের বসবাস।

এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জ্বালানী চাহিদা মেটাতে এখানকার মানুষ ব্যাপকভাবে নিকটবর্তী বনের উপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত জ্বালানী সংগ্রহের ফলে বনভূমি গুলো বৃক্ষ শূণ্য হয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। এভাবে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হওয়ার ফলে জলবায়ূর পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে মানুষের জীবিকায়নে বিরুপ প্রভাব পড়ছে । নেকম’র ক্রেল প্রকল্প’র জলবায়ু পরিবর্তন ও রক্ষিত এলাকা ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আলম খান জানান, মানুষ ঘনঘন জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ সমূহের ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। জলবায়ূ পরিবর্তন জনিত ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসে গাছপালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আজ  জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বন সংরক্ষণ করা অতীব প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, বন সংরক্ষণ এর পাশাপাশি বনের উপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পদ্ধতি যেমন: উন্নত চুলা, রিটেইনড হিট কুকার ইত্যাদি ব্যবহার করে ৫০শতাংশেরও বেশী জ্বালানী সাশ্রয় করা সম্ভব। তাতে সময় ও শ্রম উভয়ই বাঁচে। নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) কক্সবাজার জেলায় ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে (বনবিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ প্রকল্প) বাস্তবায়নাধীন ক্রেল প্রকল্পের আওতাধীন রক্ষিত বন ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার জিআইজেড এর সহযোগিতায় জ্বালানী সাশ্রয়ী উন্নত চুলা, রিটেইনড হিট কুকার ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে আসছে।

প্যারাবন সংরক্ষণে অগ্রগামী নুনিয়ার ছড়া গ্রাম সংরক্ষণ দল (ভিসিজি) এর ৬ জন সদস্য ইতিমধ্যে জ্বালানী সাশ্রয়ী রিটেইনড হিট কুকার তৈরীর প্রশিক্ষণ পেয়ে এই পর্যন্ত ৮০০ টি কুকার তৈরী করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেছে এবং প্রাপ্ত মজুরী ব্যবহার করে লাভবান হয়েছে এবং দেশের বন ও জ্বালানী সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *