কক্সবাজারে পাঁচতারা হোটেলের ছাদ ভেঙ্গে পড়ে যুবক গুরুতর আহত


কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার শহরে প্রায় অর্ধশতাধিক ভবন ঝুঁকিপূর্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ভবনগুলি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও মালিকরা তা মানছে না। এমনকি কয়েকটি ভবনের মালিককে নোটিশ দিলেও তারা কর্ণপাত করছেন না। যার কারণে যে কোন মুহুর্তে এসব ভবনগুলো ধ্বসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানীর আশংকাকরেছেন শহরবাসী।

রবিবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪ টায় কক্সবাজার শহরের লালদীঘিরপাড়ের হোটেল পাঁচতারার ছাদের অংশ ভেঙ্গে পড়ে নিচে দোকানে ফটোকপি করার সময় টেকনাফের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথায় অন্তত ১০ সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহত ইউনুছ (২৫) টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া নিবাসী নুর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি পাসপোর্ট করার জন্য কক্সবাজার এসে কাগজপত্র ফটোকপি করার সময় এ মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন।

প্রত্যক্ষদর্শী জসিম জানান, বিকেলে ইউনুছ পাঁচতারা হোটেল গলিতে ফটোকপির দোকানে ফটোকপি করতে গেলে গলির পশ্চিম পাশের বিল্ডিংয়ের উপর তলা থেকে ছাদের অংশ ভেঙ্গে ইউনুছের মাথায় পড়ে। এতে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ইউনুছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে জসিম আহত ইউনুছকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যে বিল্ডিং থেকে দেয়াল ভেঙ্গে পড়েছে সেটি পুরাতন হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ওই গলিতে সাধারণ পথচারীরা হাটাহাটি করতেও ভয় পাচ্ছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ কক্সবাজারে যে কোন সময় ঘটতে পারে। আর এতে শতশত মানুষের প্রাণহানির আশংকা রয়েছে। এর কারণ শহরের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, টানা কয়েকদিনের বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধবসে পড়ার আশঙ্কা প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর এসময় পুরনো নড়বড়ে ভবনের সাথের মজবুত ভবনগুলোও থাকে চরম ঝুঁকিতে। কয়েকদিন আগে শহরের বৈইল্যাপাড়ায় প্রায় দুই শত বছরের জাদি ধসে পড়ে। কক্সবাজার শহরে প্রায় অর্ধ শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ছোট-বড় ভবন রয়েছে। যে কোন মূহূর্তে কক্সবাজারে ঘটতে পারে ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অভ্যন্তরে মার্কেটের দোকানদার ও স্থানীয় অধিবাসীরা চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। শহরে অর্ধশতাধিক মেয়াদ উর্ত্তীণ ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ভবনের অসাধু মালিকরা। জরাজীর্ণ কয়েকটি ভবন, মার্কেট ছাড়াও মেয়াদ উর্ত্তীণ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। অথচ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সনাক্ত করেছেন অনেক আগেই।

জানা যায়, কক্সবাজার শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার সবচাইতে পুরনো ফজল হাজীর বিল্ডিং, কক্সবাজারের প্রথম সিনেমা হল টকি হাউস ভবন, আইবিপি রোডের পূর্ব পাশের কয়েকটি ভবন, বইল্যাপাড়া মসজিদের পাশের পুরাতন ভবন, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশের হোটেল আল-মুবিন, কক্সবাজার চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেটের কার্যালয়, চাউল বাজার সড়কে, পান বাজার সড়কে, পেশকার পাড়া কয়েকটি বিল্ডিং। বাজার ঘাটা মিষ্টাঙ্গানের সামনের জিলানি ট্রেডার্স ভবন, বানু প্লাজার পশ্চিম পাশের হাজী মার্কেট, বইল্যাপাড়া সিএমবি কলোনীসহ আরো বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। ভবনগুলো ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন দেখা শোনার দায়িত্ব কক্সবাজার পৌরসভার হলেও এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান না পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পৌর কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা ও উপস্থিত জনতা।

এব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান মাবু জানান, খুব দ্রুত সময়ে কাগজপত্র দেখে ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা এর আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ন ভবন মালিকদের একাধিকবার চিঠি দিয়েছি এ ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই তারা অবগত রয়েছে। এক্ষেত্রে ভবন মালিকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবন থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *