কক্সবাজারে তিন দিনে ৩৬ ছিনতাইকারী গ্রেফতার


 

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

থার্টি ফার্স্ট নাইট ও পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহরে তিন দিনের সাঁড়াশি অভিযানে ৩৬ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত এক সপ্তাহে চিহিৃত ছিনতাইকারী, ডাকাত, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও পলাতক আসামিসহ শতাধিক আসামিকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে ৩৬ ছিনতাইকারী।

এ সময় উদ্ধার করা হয় দেশীয় তৈরি বন্দুক, তাজা কার্তুজ, ধারালো ছোরা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মুখোশসহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ শহরের কলাতলীস্থ চন্দ্রিমা মাঠ এলাকা থেকে ৯ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি ছুরি, পাঁচটি মুখোশ ও সাতটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-পেশকার পাড়ার আবদুল করিম এর ছেলে খালেকুজ্জামান ওরফে ছাহিল ওরফে ছানি (২০), মধ্যম বাহারছড়ার মৃত মো. হানিফ এর ছেলে নিহাত ওরফে নেহাত (২০), লাইট হাউজ পাড়ার শুক্কুর মিয়ার ছেলে মো. রুবেল (২২), বাহারছড়া এলাকার কেরামত আলীর ছেলে মহিউদ্দিন ওরফে বাপ্পা (২০), পেকুয়া থানার উলিদিয়া সবুজ বাজার এলাকার আবুল কাশেম এর ছেলে আকাশ (২০), বাদশা ঘোনার এলাকার নুর আলীর ছেলে আলী আকবর (২০), সৈকত পোস্ট অফিস এলাকার আবদুছ সবুর এর ছেলে মিশাল ওরফে আবিদ (২০), ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকার মৃত সেলিম এর ছেলে শাখাওয়াত হোসেন ওরফে হৃদয় (২০) এবং মৃত জামাল এর ছেলে শফিউল ইসলাম ওরফে শফি (১৯)।

এর আগে বুধবার ভোররাতে শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কস্থ কাটা পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিহিৃত ছিনতাইকারীসহ ১৩জনকে আটক করা হয়। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৬টি ধারালো ছোরা, ৫টি মুখোশ ও ৪টি লোহার রড।

আটককৃতরা হল-শহরের টেকপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আঙ্গুর (৩৩), নতুন বাহারছড়ার মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. হানিফ (৩৮), পূর্ব টেকপাড়ার নাজির কসাই এর ছেলে তারেক (২৮), পশ্চিম বাহারছড়ার মো. আলীর ছেলে মো. হামিদ (৩০), মহেশখালী চরপাড়ার মৃত ইসহাক এর ছেলে মো. মোস্তাক (৪০), মধ্যম টেকপাড়ার মো. হানিফ এর ছেলে শামীম হায়দার রুবেল (২২), মোহাজের পাড়ার মো. ইউসুফ এর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বাবু (১৯), কালুর দোকান এলাকার শুভধন বড়ুয়ার ছেলে রিপন বড়ুয়া (২৬), পূর্ব পাহাড়তলীর মো. ইউনুছ এর ছেলে রিয়াদুল ইসলাম (১৮), আক্তারুজ্জামান এর ছেলে মো. ইমরান (১৮), বাহারছড়ার খায়রুল আমিনের ছেলে মো. ফয়সাল (৩০), ঝিলংজা পূর্ব খরুলিয়ার মৃত বশির আহমেদ এর ছেল নাজির উদ্দিন (৩৫) এবং দক্ষিণ বাহারছড়ার মো. আলী এর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৩)।

এছাড়াও মঙ্গলবার ভোর রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিকা মাদ্রাসা পয়েন্টস্থ কবিতা চত্ত্বরের পূর্ব পাশে ঝাউবাগানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১১ ছিনতাইকারীসহ আটক করা হয় ১৪জনকে। তাদের কাছ থেকে ৭টি ধারালো ছোরা, ৭টি মুখোশ ও ১২টি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের একের পর এক অভিযানে তাদের অধিকাংশই আটক হওয়ার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে সাধারণ মানুষ এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় পর্যটকেরা বিশেষ করে বার্মিজ মার্কেট কেন্দ্রীক কেনাকাটার জন্য আসছে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের ফলে যেমনি ভাবে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করছে ঠিক তেমনিভাবে ব্যবসায়ীরাও স্বস্তিতে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, থার্টিফাস্ট নাইট ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে সমুদ্র নগরীতে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বসানো হয়েছে তল্লশী চৌকি। সাদা পোশাকে কাজ করছে ৫০জন পুলিশ সদস্য।

সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়েও পর্যটন শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে পুলিশ।

কক্সবাজার শহর ও শহরতলীতে পর্যটকসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশের বিভিন্ন টিমের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিযানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *