parbattanews bangladesh

কক্সবাজারে আইন শৃঙ্খলার অবনতি, শংকিত সাধারণ মানুষ

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজার জেলায় আইন শৃঙ্খলা অবনতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রতিদিন খুন-হত্যা এবং লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক অপহরণকারী ও পাহাড়ী চক্র সক্রিয় হয়েছে। তাদের অব্যাহত অপহরণ বানিজ্য এবং খুন নিত্যনৈমত্তিক মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও সামাল দিতে পারছেনা যথা সময়ে। এভাবে হলে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হবে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কক্সবাজার শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, চুরি মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছে। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।

তবে কি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে এ প্রশ্ন এখন সকলেরই।বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক অপহরণ চক্র ও ঈদগড়-বাইশারীসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ভাবিয়ে তুলেছে মানুষকে। অশান্ত হয়ে রক্তাক্ত জনপদে রুপ নিচ্ছে কক্সবাজার! প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন সকলেই। নারী, শিশুসহ একাধিক হত্যার পাশাপাশি ঘটছে হত্যা চেষ্টা, ইয়াবা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, জুয়া, মদ গাঁজার রমরমা ব্যবসা।

প্রতিদিনের হত্যাকাণ্ডের রেশ ধরে বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার শহরে পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তি খুন হয়েছে। একজনকে শহরের বড়বাজারের চাউল বাজার এলাকায় ছুরিকাঘাতে আর অন্যজনকে আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনে প্রকাশ্যে মারামারি-খুন এটা মেনে নিতে পারছেন না আইনজীবিরা।

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ টা ও বিকাল ৫টার দিকে এই পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, কামাল উদ্দিন (৬৫) ও আবু তাহের (৫০)। তাদের মধ্যে কামাল উদ্দিনকে জেলা আইনজীবী ভবনের সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী দক্ষিণ ডিকপাড়া এলাকার মৃত মো. নসিবের ছেলে। আর আবু তাহেরকে চাউলবাজার এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন।

নিহত আবু তাহের শহরের সমিতিপাড়া মোস্তাকপাড়া এলাকার মনসুর মিয়ার ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত চত্বরে কয়েকজন লোকের সঙ্গে কটাকাটি হয় কামাল উদ্দিনের। এক পর্যায়ে তারা কামাল উদ্দিনকে লাথি ও ঘুষি মারে। লাথি ও ঘুষির আঘাতে মাটিতে লুটে পড়লে দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনাস্থলে কয়েকজন আইনজীবির সাথে কথা বলে জানা যায়, আইনজীবি সহকারি কামাল ও খলিল মাস্টারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে কামালকে খিল-ঘুষি মারলে এক পর্যায়ে কামাল মুন্সি ঢুকে পানি খায়। ধারনা করা হচ্ছে স্ট্রোক করে কামাল মুন্সি মারা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের মধ্যে রেল লাইন অধিগ্রহনের জমি-জমার টাকা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে কয়েকমাস ধরে। এ টাকা নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-কথা কাটাকাটি হয়ে আসছে।

পরিবার সূত্র জানা গেছে, ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংকরোড় মুহুরীপাড়া এলাকার খলিলুর রহমান ওরফে খলিল মাস্টার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে খলিল মাস্টারের নেতৃত্বে তার ছেলে আজিজুর রহমান, কফিল উদ্দিন ও বুলবুল আহমেদ পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ঝিলংজা ইউনিয়নের স্থানীয় সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য রওশন আক্তার বলেন, ‘শুনেছি খলিল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে বুধবার বিকাল চারটার দিকে শহরের চাউলবাজারে আবু তাহের (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে একজন দুর্বৃত্ত। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আবু তাহের শহরের সমিতিপাড়া মোস্তাকপাড়া এলাকার মনসুর মিয়ার ছেলে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পুলিশের ইনচার্জ আপন হোসেন মানিক বলেন, বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আবু তাহের নামে ওই ব্যক্তিকে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। তাকে গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, পৃথক ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। উভয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একজনকে আদালত চত্বরে মারধর করে খুন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তির ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। যেকোন মূল্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।