এশিয়া কাপ জিতে ইতিহাস গড়লো সালমা বাহিনী



পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:
কুয়ালালামপুরে মেয়েদের ফাইনালে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতে ইতিহাস গড়লো সালমা বাহিনী। শুরুতে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে বোলিংটা ভালোই করে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১২ রানে থামে ভারত।

জবাবে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চরম নাটকীয়তার পর শেষ বলে ২ রান নিয়ে কাঙ্ক্ষিত জয় উপহার দেন জাহানারা আলম। ফলে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ নারী দল।

১১৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তোলে বাংলাদেশ। কিন্তু ৭ম ওভারে পুনম যাদবের করা ৫ম ও ৬ষ্ঠ বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন দুই সেট হওয়া ওপেনার আয়েশা রহমান (১৭) এবং শামিমা সুলতানা (১৬)।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। তবুও জয় থেকে দূরে সরাতে পারেনি ভারত। তবে শেষ ওভারে যখন জয়ের জন্য ৯ রান প্রয়োজন, হাতেও ছিলো ৫টি উইকেট। ঠিক তখনি ভারতীয় দলনপতি হারমানপ্রীত পরপর দুই বলে সানজিদা (৫) ও সেট ব্যাটসম্যান রুমানাকে (২৩) সাজঘরে ফেরালে শঙ্কা জেগে ওঠে বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু শেষ বলে প্রয়োজনীয় ২ রান নিয়ে সব শঙ্কাকে দূরে ঠেলে জয় ছিনিয়ে সালমাকে নিয়ে ইতিহাস গড়লেন জাহানারা আলম।

দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন নিগার সুলতানা। এছাড়া রুমানা আহমেদ ২৩, আয়েশা ১৭, শামিমা ১৬, ফারজানা ১১ এবং ফাহিমা ৯ রান করেন। ভারতের হয়ে পুনম যাদব একাই ৪টি উইকেট দখল করেন। এছাড়া দলপতি এইচ কাউর নেন ২টি উইকেট।

ফাইনালের ম্যাচ সেরা হন রুমানা আহমেদ। আর সিরিজ সেরা হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন হারমানপ্রীত কাউর

গ্রুপ পর্বেই ভারতের ১৪২ রানের লক্ষ্য টপকে গেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। ফাইনালে সেই ভারতের বিপক্ষেই ১১৩ রানের লক্ষ্যটা রুমানাদের জন্য খুব কঠিন হওয়া কথা নয়। তবে ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। ফাইনালটা জিততে পারলে অনন্য এক ইতিহাসই গড়বেন মেয়েরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে কখনো কোনো শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ, সেটি ছেলেদের ক্রিকেট হোক কিংবা মেয়েদের। দীর্ঘ এই শিরোপা-শূন্যতা দূর করার সুযোগ রয়েছে রুমানা-ফারজানাদের।

রোববার (১০ জুন) টসে জিতে বোলিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মন্দনাকে (৭) রানআউট করেন সালমা। ভারতের রানের চাকাও শুরুতে ভালোই আটকে রাখে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারের মধ্যে ২৩টি বল ‘ডট’ দিয়েছে বোলারেরা। রান তোলার চাপে পড়ে সপ্তম ওভারে দীপ্তি শর্মাকেও (৪) হারায় ভারত। তাঁকে সরাসরি বোল্ড করেন জাহানারা। ভারতের স্কোর তখন ৬.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২৬। এখান থেকে ৬ রানের ব্যবধানে ভারতের আরও ২টি উইকেট তুলে নিয়েছে মেয়েরা। সাত, আট ও নয়—এই তিন ওভারে ৩ উইকেট হারায় ভারত।

দীপ্তি ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ওপেনার মিতালি রাজকে (১১) তুলে নেন খাদিজা। নবম ওভারে আনজুয়া পাতিল (৩) আউট হয়েছেন নিজের কৃতকর্মের মাশুল গোনে। ৮.২ ওভারে রান নিতে গিয়ে নিজের প্রান্তে ফেরার সময় উইকেটরক্ষকের থ্রো দেখে তিনি উইকেট ঢেকে দৌড়ান। সালমারা ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউটের আবেদন করলে টেলিভিশন রিপ্লে দেখে আউট ঘোষণা করেন থার্ড আম্পায়ার। ১৩তম ওভারে ভেদা কৃঞ্চমূর্তিকেও তুলে নেন অধিনায়ক সালমা। তাঁকে বোল্ড আউট করেন এই স্পিনার।

১৫তম ওভারে একাই ২ উইকেট তুলে নেন রুমানা আহমেদ। দ্বিতীয় বলে তাঁকে ডাউন দ্য উইকেট এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তানিয়া ভাটিয়া (৩)। তিন বল পর শিখা পাণ্ডেকে (১) শামীমা সুলতানার ক্যাচে পরিণত করেন রুমানা। খাদিজার করা শেষ ওভারের প্রথম বলে রানআউটের শিকার হন ভারতের পেসার ঝুলন গোস্বামী। সতীর্থরা এক প্রান্তে তেমন ভালো করতে না পারলেও দলের ইনিংসটা বলতে গেলে একাই টেনেছেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। ৪১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার খাদিজা ও রুমানা। দুজনেই ২টি করে উইকেট নেন। তবে ভারতের রানের চাকা আটকে রাখায় দারুণ অবদান রেখেছেন নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন। ১ উইকেট নেওয়া সালমা ১৩টি ‘ডট’ দিয়েছেন। নাহিদা উইকেট না পেলেও ১৬টি ‘ডট’ দিয়েছেন। রান দিয়েছেন মাত্র ১২টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *