উপজাতি এবং বাঙ্গালীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল


রাঙামাটি প্রতিনিধি:

গত ২ রা জুন যারা এ ধরনের সহিংস ঘটনার মাধ্যমে এখানকার উপজাতি এবং বাঙ্গালীদের মধ্যে বিরাজমান সৌহার্দ্য মূলক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এনে শাস্তি প্রদানে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান। বুধবার দুপুরে ত্রাণ বিতরণকালে  তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য জানে আলম, ৭নং লংগদু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমাসহ অন্যান্য ইউপি পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কার্বারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া লংগদু উপজেলায় সহিংসতায় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২১৩টি পাহাড়ি পরিবারের লোকজনদের মাঝে সরকারি ত্রাণ হিসাবে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে খাদ্য শষ্য, ২ বান্ডিল ঢেউটিন, ৬ হাজার করে গৃহ নির্মাণ অনুদান এবং ২টি করে কম্বল বিতরণ করেন।

জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান বলেন, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে সংঘটিত সহিংস ঘটনা এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি লোকজনদের সরকারি প্রতিশ্রুত পূর্ণবাসন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে এবং একই সাথে নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ সহিংস ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের একাধিক মন্ত্রী এবং উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাগণ লংগদুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে সরকারি সহায়তায় যথাযথ পূর্ণবাসনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে এ ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে তিনি পাহাড়ি ও বাঙ্গালী সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ২ জুন স্থানীয় যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকজন লংগদু উপজেলার তিনটিলা, মানিক্যাছড়া, বাইট্টা পাড়ার পাহাড়ি এলাকায় অগ্নিসংযোগের সহিংস ঘটনা ঘটায়। এতে দুই শতাধিক বসতবাড়ি ও দোকান পাট ভস্মীভূত হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে এবং তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

সহিংস ঘটনার পর স্বাস্থমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *