উখিয়ায় স্ত্রীর পরকীয়া বাঁধাদেয়ায় স্বামী খুন


উখিয়া প্রতিনিধি:

নববিবাহিত স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম ও বেপরোয়া আচরণ বাঁধা দিতে গিয়ে আবুল হাসেম (৩০) উখিয়ার বালুখালী শ্বশুর বাড়ীতে খুন হয়েছে এমন দাবী নিহতের পরিবারের।

অমানষিক নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। নিহত যুবক রত্মাপালং ইউনিয়নের টেক পাড়া গ্রামের বজলুর রহমানের চতুর্থ পুত্র।

এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যসহ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার রাতে এই ঘটনা হয়।

জানা যায়, উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীস্থ পান বাজার গ্রামের প্রবাসী শামশুল আলমের মেয়ে আকলিমা বেগমের সাথে আবুল হাশেমের মধ্যে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছর দু’জনেই হলফনামা মূলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এছাড়াও স্বামী হিসাবে হাশেম প্রতিনিয়ত শ্বশুর বাড়ীতে আসা-যাওয়া ছিল। কোটবাজার মিলিখা মার্কেট ও বালুখালীতে দোকান ছিল তার।

সরজমিন পরিদর্শন ও খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকুরী কর্মরত আকলিমা। চাকুরীস্থলে সহকর্মীর সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ও বেপরোয়া চলাফেরা নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার মনোমালন্য ও ঝগড়ার ঘটনাও ঘটে।

স্বামী আবুল হাশেম একাধিকবার চেষ্টা করেও স্ত্রীকে পরকীয়া সম্পর্ক থেকে ফেরাতে বারবার ব্যর্থ হয়।

পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে অজ্ঞাত এক মোবাইল ফোন থেকে খবর দেওয়া হয় আবুল হাশেম বিষ পান করে উখিয়া হাসপাতালে রয়েছে।

আত্বীয়স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পায় মুমর্ষ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে মারা যায় তিনি।
নিহতের ছোট ভাই ইমরান সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইয়ের মাথায় মারাত্বক জখমের চিহৃ রয়েছে।

এছাড়াও সারা শরীরের আঘাতও দেখা গেছে। নাকে জমাট বাঁধা রক্ত ছিল। কুসুম ফুলে গেছে। তার দাবী পরকীয়া প্রেমে বাঁধা দেওয়ার অপরাধে ক্ষুদ্ধ হয়ে স্ত্রী সহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজন পরিকল্পিত ভাবে অমানষিক নির্যাতন চালিয়ে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। শুধু তাই নয় মুমর্ষ অবস্থায় একটি সিএনজি যোগে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, শ্বশুর বাড়ীর লোকজন ঘটনার দিন উখিয়া থানায় জামাতা আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করে। এ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে নানা রহস্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *