কুরবানীর ঈদের রান্না


 

আর কদিন পরেই কুরবানীর ঈদ। এ ঈদ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহিলারা পরিবার ও আত্নীয়-স্বজনদের জন্যে বিশেষ আগ্রহে রান্না করে থাকে। তবে কুরবানীর ঈদ বলেই এই উৎসবের রান্নায় গোশতের রেসিপি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে গরুর গোশতের রেসিপি ও খাসির গোশতের রেসিপি। সে কারণে আসন্ন ঈদে বাংলাদেশের মুসলিম মহিলাদের জন্য আকর্ষণীয় কিছু গোশতের রেসিপি তৈরী করে পার্বত্যনিউজের জন্য পাঠিয়েছেন- রোখসানা আক্তার ছন্দা। ছবি- সংগৃহীত।


কাচ্চি বিরিয়ানী

উপকরণ: খাসির মাংস ২ কেজি, বাসমতি চাল ১কেজি, ঘি দেড় কাপ, আলু ভাজা আধা কেজি, পেয়াজ (বেরেস্তার জন্য) ২৫০গ্রাম, আদা বাটা ২টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২চা চামচ, দারুচিনি গুঁড়ো আধা চা চামচ, এলাচ গুঁড়ো ৬টি, লবঙ্গ গুঁড়ো ৪টি, জায়ফল গুঁড়ো ১টি, জয়ত্রী গুঁড়ো ১চিমটি, জিরা গুঁড়ো ১টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়ো ৬টি, টক দই সোয়া কাপ, আলু বোখারা ৫টি, লবণ পরিমাণ মতো।

প্রণালী: মাংস ধুয়ে লবণ দিয়ে মেখে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। পেয়াজ ঘিয়ে ভেজে তুলে ঠান্ডা করে মোটা গুঁড়ো করে রাখুন। আদা-রসুন এর রস, পেয়াজ, গুঁড়ো মসলা মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে যে পাত্রে বিরিয়ানি রান্না করবেন সে পাত্রে রাখুন। এখন মাংসের সঙ্গে দই ভালভাবে মেশান। আলু একটু ভেজে নিন। এবার আলু ও ঘি মাংসের ওপর ছড়িয়ে দিন। চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। একটি পাত্রে ৩ কাপ পানি ও লবণ দিয়ে ফুটিয়ে পানিতে চাল সিদ্ধ করুন। চাল আধা সিদ্ধ হলে পানি ঝরিয়ে একটি পাত্রে রাখুন। চালের ফুটানো পানি থেকে ১ কাপ পানি ও বাকি ঘি মাংসে মিশিয়ে আধা ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। এরপর মাংসের ওপর চাল ছড়িয়ে ফুটানো পানি দিয়ে দিন। পানি যেন চালের সমান হয়। চালের ওপরে যেন না উঠে। ঢাকনা দিয়ে চুলায় মাঝারি আঁচে রাখুন। চাল সিদ্ধ হলে তাওয়ার পর পাত্র বসিয়ে দমে রাখুন। চাইলে, কাচ্চি বিরিয়ানি ওভেনে ৩৫০ডিগ্রী ফা: তাপে ৩ ঘণ্টা বেক করতে পারেন।

গরুর কালো ভুনা

উপকরণ: গরুর মাংস ছোট করে কাটা ১ কেজি, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ২ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি দেড় কাপ, লবণ স্বাদমতো, ধনে গুঁড়া ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, জয়ত্রি গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জায়ফল গুঁড়া ১/২ চা চামচ, সরিষার তেল ১ কাপ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, শুকনো মরিচ ভাজা গুড়ো ২ চা চামচ, গরম মসলা-তেজপাতা ২টি করে, এলাচ ৪টি, আস্ত গোলমরিচ ৪-৫টি, লবঙ্গ ৪-৫টি, দারুচিনি ২-৩টি, শুকনো মরিচ ১/২ ফালি করে বিচি ফেলে দিয়ে ৫-৬টি, পেঁয়াজ ৪ ভাগ করে কাটা ৪-৫টি।

প্রণালী: প্রথমে মাংস থেকে চর্বি ছাড়িয়ে নিয়ে লবণ, আদা, রসুন বাটা দিয়ে ১৫-২০ মিনিট মেরিনেট করে রেখে অল্প পানিতে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে নিন। এরপর প্যানে সরিষার তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি, তেজপাতা, এলাচ, আস্ত গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, হলুদ-মরিচের গুঁড়া দিয়ে কষিয়ে সেদ্ধ মাংস ঢেলে দিয়ে একটু কষান। পানি থাকলে পুরো পানি শুকিয়ে ফেলুন চুলার আঁচ বাড়িয়ে। এর পর বাকি সব মসলা মাংসে একে একে দিয়ে চুলায় ভালভাবে কষিয়ে নিতে হবে। কোন পানি দেওয়া যাবে না। কষানোর সময় পেঁয়াজ আর শুকনো মরিচ দিয়ে আবার কষাতে হবে। কষাতে কষাতে মাংস ভাজা ভাজা হয়ে একটু কালচে হয়ে আসলে আবার একটু ভাজা জিরা গুঁড়া দিয়ে নেড়েচেড়ে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন পোলাও ,ভাত, পরোটা, লুচি, রুটি, দিয়ে।

গরুর মাংসের কোফতা

উপকরণ: গরুর মাংস ব্লেন্ড করা ৩ কাপ, পাউরুটির চারদিকের শক্ত অংশ বাদ দিয়ে ২টা, কাঁচা মরিচ ৬টা, পেয়াজ কুচি ২কাপ, গোল মরিচের গুড়া আধা চা চামচ, টেস্টিং সল্ট আধা চা চামচ, হলুদ-মরিচ,-জিরা ও ধনিয়ার গুড়া সিকি চা চামচ করে, ময়দা ১ টেবিল চামচ, ডিম ১টা, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি: পাউরুটি পানিতে ডুবিয়ে পানি চিপে নিন। একটি পাত্রে সব উপকরণ মাখিয়ে নিন। এতে মাংস, ভেজা পাউরুটি ও সব মশলা মাখিয়ে ছোট ছোট গোলাকৃতি তৈরি করুন। ডুবো তেলে বাদামী করে ভেজে তুলে নিন। পছন্দের সস ও সালাদ দিয়ে পরিবেশন করুন।

বাসমতী চালে শাহী বিফ বিরিয়ানি

উপকরণ: কালিজিরা চাল ১ কেজি , গরুর মাংস ২ কেজি , মুগ ডাল ২৫০ গ্রাম , পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, হলুদ-মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, আদা-রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মশলা ১০-১২টি, কাঁচামরিচ ১০-১২টি, মাংসের মশলা ১ চা চামচ, টক দই ১ কাপ, জায়ফল-জয়ত্রি বাটা সিকি চা চামচ, গরম মশলা গুঁড়া ১ চা চামচ,  ঘি ১ কাপ,  তেজপাতা ২টি,  লবণ স্বাদমতো ।

প্রণালী: প্রথমে মুগ ডাল ভালো করে ভেজে নিন । তারপর হাঁড়িতে ঘি গরম করে গরম মশলা, পাঁচ ফোড়ন, পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ভেজে অর্ধেক বাটা ও গুঁড়া মশলা,  টক দই , তেজপাতা , লবণ দিয়ে নেড়ে সামান্য পানি দিয়ে কষাতে থাকুন। এবার মাংস দিয়ে দিন। মাংস সিদ্ধ হয়ে এলে বাকি মশলাগুলো দিয়ে আরও ২-৩ মিনিট রান্না করে নামিয়ে রাখুন। চাল ও ডাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার হাঁড়িতে ঘি গরম করে চাল ও ডাল কিছুক্ষণ ভেজে নিয়ে চালের দেড়গুণ পানি, রান্না করে রাখা মাংস, কাঁচা মরিচ ও পরিমাণমতো লবণ দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। এরপর চালের পানি শুকিয়ে এলে চুলায় তাওয়া দিয়ে মৃদু আঁচে হাড়ি ৫-৭ মিনিট  দমে বসিয়ে রাখুন । হয়ে গেল মজাদার বাসমতী চালে শাহী বিফ বিরিয়ানী।

খাসির মাংসের চাপ

উপকরণ: খাসির চাপের মাংস ১.৫ পাউন্ড। পেঁয়াজ বাটা ৩ টেবিল চামচ। শুকনো মরিচ দুই থেকে তিনটি। মরিচের গুঁড়া এক চা চামচ। থেঁতো করা রসুন ৭ থেকে ৮ কোয়া। মিহি আদা বাটা ১ চা চামচ। গরম মশলা গুড়া ১ চা চামচ । কাঠ বাদাম৮/১০টি । দুধ ৩ থেকে ৪ টেবিল চামচ। গোলাপজল ১ চা চামচ। ঘি ‍২ টেবিল চামচ। তেল ২ টেবিল চামচ। লবণ পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালী: বাদাম বেঁটে দুধের সাথে মিশিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করে দিন।  পেঁয়াজ কুঁচি ভেজে নিন। দইয়ের সাথে গোলাপ জল, গরম মশলা ও শুকনো মরিচ ছাড়া বাকী সব মশলা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এরপর  ফ্রাই প্যানে তেল গরম করে শুকনো মরিচ ছেড়ে দিন। তারপর চাপের মাংস গুলো তেলে দিয়ে অল্প আঁচে প্রায় ৪৫ মিনিট চুলায় ঢেকে ঢেকে রান্না করুন। এরপর দই-মশলার মিশ্রণটি দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে দিন। মশলা কষে তেল ভেসে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।  এরপর বাদাম ও দুধের মিশ্রণটি মিশিয়ে আরো ৫ মিনিট চুলায় রাখুন।  এরপর গোলাপ জল ও গরম মসলার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন।  সবশেষে উপরে ঘি ও বেরেস্তা দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। পোলাও, খিচুড়ি, ভাত কিংবা নান রুটির সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।

খাসির দম বিরিয়ানি

উপকরণ: খাসির মাংস ১কেজি বাসমতি চাল ২ কাপ, আদা ৪ টুকরা, রসুন ২০কোয়া, দই ২ কাপ, কাঁচা মরিচ কুচি ২টা, মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, পেঁয়াজ ৪টি, লবঙ্গ ৬টা, দারুচিনি ১ টুকরা, কাঁচা এলাচ ৫টি, শুকনো এলাচ ১টি, গোলমরিচ ১০টি, শাহি জিরা পাউডার আধা চা চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, গরম মসলা ২ চা চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ কাপ, পুদিনা পাতা কুচি আধা কাপ, অলিভ অয়েল ৫ টেবিল চামচ, জাফরান দেওয়া দুধ ২ চা চামচ, গোলাপ জল ১ চা চামচ।

প্রণালী: প্রথমে মাংস ২ ইঞ্চি পরিমাণ টুকরো করে কেটে নিন। পেঁয়াজ কুচি করে ভেজে নিন। অর্ধেক আদা ও রসুন বেটে ভালো করে মিশিয়ে নিন। কিছু আদা স্লাইস করে কেটে নিন। খাসির মাংসের সঙ্গে দই, আদা-রসুন বাটা, কাঁচা মরিচ কুচি, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, লবণ, ভাজা পেঁয়াজ, লেটুসপাতা মিশিয়ে নিন। লবঙ্গ, দারুচিনি, কাঁচা ও শুকনো এলাচ, গোল মরিচ পাতলা রুমালে বেঁধে রাখুন। কড়াইয়ে ৫ কাপ পানি দিয়ে রুমালে বাঁধা মসলা দিন। এরপর চাল, লবণ, শাহি জিরা পাউডার দিয়ে আধা সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। ঢাকনা খুলে অর্ধেক চাল উঠিয়ে মাঝখানে গর্ত করে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে উপরে বাকি চাল দিয়ে ঢেকে দিন।

স্পেশাল মজাদার নেহারি

উপকরণ: গরু বা খাসির পায়া ১ কেজি, বড় এলাচ গুঁড়া  ১চা চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা দেড় কাপ, শাহি জিরা আধা চা চামচ, শুকনো মরিচ ৩/৪টি, লবঙ্গ ৩/৪টি, সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ, তেজপাতা ২/৩টি, দারুচিনি ২টি, রসুন বাটা ১টেবিল চামচ, আদা মোটা করে কুঁচি  ২টেবিল চামচ, হাড়সহ মাংস  ১কেজি, ছোট এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ ১০/১২টি, গোল মরিচ গুঁড়া ২চা চামচ, সিরকা  ৪টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো।

প্রণালী: লবণ ও সিরকা দিয়ে হাড় ও মাংস ২ঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন । ২ঘন্টা পর হাড় ও মাংস পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। তেল গরম করে তেলে হাড় ও মাংস লাল করে ভেজে নিন। সেই তেলে ছোট-বড় এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, রসুন, আদা, শাহিজিরা, দারুচিনি দিয়ে দুই মিনিট ভাঁজুন। এতে পেয়াজ বেরেস্তা, মাংস, শুকনা মরিচ দিয়ে ভাজুন আরো ২/৩ মিনিট।এবার মাংস ডুবিয়ে অনেক পানি দিন। ঢেকে মৃদু আঁচে দুই ঘন্টা পর লবণ ও কাঁচামরিচ দিন। ১-২ ঘন্টা রান্না করার হাড় থেকে মাংস খুলে খুলে আসবে। ঝোল অনেক থাকবে  কিন্তু ঝোল ঘন থাকবে- এ অবস্থায় নামিয়ে নিন। এবার অল্প তেলে তেজপাতা, রসুন কুচি লাল করে ভেঁজে ঝোলের ভিতর দিয়ে দিন।পরিবেশন করার আগে কাঁচা মরিচ কুঁচি, ধনে পাতা ও আদা কুঁচি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন স্পেশাল মজাদার নেহারি।

সোনা মণিদের জন্য গরুর জিহ্বা ভুনা

উপকরণ: গরুর জিহ্বা ১টি, রসুন বাটা ২চামচ, আদাবাটা ১চামচ, এক চিমটি জিরা গুঁড়া, ১চামচ হলুদ গুঁড়া, পরিমাণ মত লাল মরিচ গুঁড়া, পেঁয়াজ কুঁচি ৪-৫টি, এলাচ ৩টি,

প্রণালী: পানি গরম করে গরুর জিহ্বা ভাল করে সিদ্ধ করে পরিষ্কার করে নিন। জিহ্বার উপরের একটা স্তর উঠিয়ে নিতে হবে। তার পর জিহ্বাটি কিউব করে কেটে নিন। তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুঁচি ভেঁজে নিন। এরপর এলাচ, দারুচিনি ও কিছু লবণ দিয়ে দিন।ছোটদের রান্নার জন্য রান্নায় কখনো ঝাল বেশী দেয়া উচিত না। ভাল করে নেড়ে কষিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পর তেল উপরে উঠে আসলে জিহ্বার গোশত গুলো দিয়ে দিন। ভাল করে নেড়ে আগুনের আঁচ বাড়িয়ে দিন। কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।এক কাপ গরম পানি (পানির পরিমাণটা নির্ভর করবে গোশত কতটুকু শক্ত তার উপর) দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যাতে কড়াইয়ের তলায় না লাগে।এভাবে ৩০মিনিট রান্না করুন। শেষবারের মত লবণ দেখে লাগলে দিন। ঝোল শুকিয়ে মাখা মাখা হয়ে গেলে নামিয়ে নিন এবং খেয়াল রাখবেন, গোশত যেন নরম হয়।

কলিজা ভুনা

উপকরণ: ১ কেজি কলিজা, পেঁয়াজ কুচি ১কাপের এক-তৃতীয়াংশ, আদা বাটা  ১টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়ো ১চা চামচ,  জিরা গুঁড়ো ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়ো ১চা চামচ, মেথি বাটা  ১চা চামচ, দারুচিনি ১ সেমি লম্বা ২ টুকরো, রসুন ৪ কোয়া, তেজপাতা ১টি,  এলাচ ৩টি,  তেল পৌনে এক কাপ এবং লবণ স্বাদমতো ।

প্রণালী: কলিজা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। বেশি করে পানি নিয়ে ৩-৪ বার ধুয়ে নিন।এবার কড়াইয়ে তেল গরম করে ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ কুচি,  ৪ কোয়া রসুন ও ১টি তেজপাতা ছিড়ে দিয়ে অল্প লাল করে ভাঁজুন। বাকী সব মসলা, কলিজা এবং আধা কাপ পানি দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে রান্না করুন ২০-২৫ মিনিট। এরপর পানি শুকোলে কয়েক মিনিট ভালভাবে কষান। তেল ওপরে ভেসে উঠলে নামিয়ে নিন। কলিজা বেশিক্ষণ সেদ্ধ করলে শক্ত হয়ে যায়।

মগজের কাটলেট

উপকরণ: মগজ সেদ্ধ আধা কেজি, পাউরুটি কুচি সোয়া কাপ, দুধ ১কাপের ৩ ভাগের ১ ভাগ, ধনেপাতা  ১টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ ১টেবিল চামচ, জায়ফল গুঁড়ো আধা চা চামচ, ময়দা আধা কাপ  এবং লবণ স্বাদমতো।

প্রণালি: সেদ্ধ মগজ ছুরি দিয়ে কিমা করে নিন। পাউরুটি কুচি দুধে ভিজিয়ে নরম করে নিন। মগজের সঙ্গে পাউরুটি, ধনেপাতা,  গোলমরিচ, লবণ, কাঁচামরিচ ও জায়ফল মিশিয়ে নিন। মগজ দিয়ে ১ সেমি. পুরু করে কাটলেট তৈরি করে ময়দায় গড়িয়ে নিন।  ফ্রাইপ্যানে ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে কাটলেট ৪-৮ মিনিট এপিঠ ওপিঠ বাদামি রঙ করে ভেঁজে তুলুন। হট চিলি সস অথবা টমেটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

খাসির স্পেশাল রেজালা

উপকরণঃ  খাসির মাংস ২ কেজি, আদা বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ, হলুদগুঁড়ো ২ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ চা চামচ, জিরার গুঁড়া ২ চা চামচ, ধনেগুঁড়া ২ চা চামচ, পোস্তদানা বাটা ২ টেবিল চামচ, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, কাঁচা মরিচ ১০টি, তেজপাতা ২টি, দারচিনি ৩ টুকরা, এলাচ ৪টি, পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, আলু ৬টি, কেওড়া জল ১ টেবিল চামচ।

প্রণালী:  খাসির মাংস টুকরো করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। হাঁড়িতে তেল গরম করে দারুচিনি,  এলাচ ও তেজপাতা ছিঁড়ে ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেঁজে নিন। এবার মাংস ও লবণ দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ভেঁজে নিন। মাংস ভাঁজা হলে জিরার গুঁড়ো ও পোস্তদানা বাটা বাদে অন্যান্য বাটা সব মসলা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে ঢেকে দিন। ১০-১৫ মিনিট পর ঢাকনা খুলে ১ কাপ গরম পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন ও  ঢেকে দিন। আলুগুলো ছিলে লম্বালম্বি করে মাঝখান থেকে কেটে ২ টুকরা করে নিন। পানি শুকিয়ে এলে আরও ১ থেকে দেড় কাপ গরম পানি দিয়ে আলু এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে নেড়ে ঢেকে রেখে  দিন।  ১০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে জিরাগুঁড়ো ও পোস্তদানা বাটা দিয়ে নেড়ে আবারও ঢেকে দিন। আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে ঢাকনা খুলে প্রয়োজন হলে আরও সামান্য পানি ও কেওড়া দিয়ে হালকা নেড়ে ঢেকে দিন। মাংস নরম হয়ে  তেল অল্প ছাড়লে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। ১০ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে আরোও কিছুক্ষণ দমে রাখুন । রান্না শেষে পরিবেশন করুন।

গরুর রেজালা

উপকরণ: গরুর মাংস ৫ কেজি, তেল ৫০০গ্রাম, লবণ ১০০গ্রাম, আদা বাটা ১০০গ্রাম, রসুন বাটা ১০০গ্রাম, পেঁয়াজ ১ কেজি, শুকনো মরিচ বাটা ১০০গ্রাম, হলুদ ৫গ্রাম, দারুচিনি ২৫ গ্রাম, এলাচ ১০গ্রাম, সাদা গোল মরিচ গুঁড়ো ১০গ্রাম, জায়ফল ২টা, জয়ত্রী সামান্য, তেজপাতা ৫-৭টা, টক দই ২০০গ্রাম, জিরা ৫০ গ্রাম।

প্রণালি: গরুর মাংস প্রতি কেজিতে ১৬ থেকে ১৮ টুকরা করে কেটে ভালভাবে ধুঁয়ে নিন। এবার মাংস তেলসহ সব ধরনের মসলা দিয়ে মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর টক দই দিয়ে আবার মাখান। এবার মাংসের মিশ্রণটি চুলায় দিয়ে ভালভাবে কষিয়ে নিন। মাংস কষানো হলে আলাদা একটা ঘ্রাণ আসবে। এরপর দারুচিনি, গোল মরিচের গুঁড়া,  জিরা গুঁড়ো,  এলাচ গুঁড়ো দিয়ে নেড়ে এর মধ্যে একটু পানি দিয়ে নেড়ে নিন। কয়েক মিনিট পর চুলার আঁচ কমিয়ে দমে বসিয়ে রাখুন। মাটির চুলা হলে কয়লায় দম দিতে পারেন। এতে মাংস নরম হবে এবং সুন্দর একটি ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *