ইয়াবা ডন ও ভিআইপি গাড়ি উধাও



কক্সবাজার প্রতিনিধি:

নিত্য কোলাহল ও যানজটে অতিষ্ঠ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গেল ৫/৬ দিন হতে মাদক বিরোধী অভিযান এবং বন্দুকযুদ্ধে তালিকাভূক্ত ইয়াবা কারবারী জনপ্রতিনিধির মৃত্যুর পর পরই হঠাৎ করে বদলে গেছে মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি। আতংকিত মানুষ আর স্তব্ধ জনপদে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যদের মোটর বাইকসহ ভিআইপি গাড়ির মহড়া উধাও হয়ে গেছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে মাছ-মাংস এবং শাক-সবজির দামও তুলনামূলক কমে আসায় দরিদ্র মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরছে।

জানা গেছে, উপজেলার টেকনাফ, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ পৌরসভা, মহেশখালীয়া পাড়া, গোদারবিল, লেঙ্গুরবিল, উপজেলা পরিষদ ও বৃহত্তর নাইট্যংপাড়া, কেকে পাড়া, জালিয়া পাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, কলেজপাড়া ও শীলবনিয়াপাড়া, টেকনাফ-বাহারছড়া শাপলাপুর, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, বৃহত্তর টেকনাফ টু কক্সবাজার আরকান সড়কসহ হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া-জাদিমোরা, মোচনী-লেদা, আলীখালী-রঙ্গিখালী, চৌধুরীপাড়া রাখাইন পল্লী, উলুচামরী, দরগাহ, ফুলের ডেইল, বৃহত্তর সিকদারপাড়া, পানখালী, আলী আকবর পাড়া, হোয়াইক্যং খারাংখালী রাখাইন পল্লী, কম্বনিয়া পাড়া, বাহারুল উলুম মাদ্রাসা, সাতঘরিয়া পাড়া, নয়াবাজার, মিনাবাজার, ঝিমংখালী, নয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া, করাচিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ঊনছিপ্রাং, লম্বাবিল, তেচ্ছিব্রীজ, বাহারছড়া পাহাড়ী সড়ক, চাকমা পল্লী, উলুবনিয়া, মনিরঘোনা, হোয়াইক্যং বাজার ও কেরুনতলী সড়ক এবং আভ্যন্তরীণ গ্রামীণ উপসড়ক সমূহে গত সপ্তাহ ধরে কতিপয় সরকারী চাকুরীজীবি, এনজিও কর্মীদের মোটর বাইক ছাড়া ইয়াবা গডফাদার, পাচারকারী ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের ভিআইপি মডেলের মোটর সাইকেল, প্রাইভেট কার, নোয়াহ, মাইক্রো ও পাজেরোর বেপরোয়া চলাচল চোখে পড়েনি।

প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ জনপদের রাস্তা-ঘাট প্রায় খালি হয়ে পড়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে আতংকিত ইয়াবা ডনেরা প্রাণ রক্ষার্থে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা বস্তি ও পাহাড়ি জনপদে পাহারা বসিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

অনেকে টাকার বিনিময়ে চোরাই পথে মিয়ানমার সীমান্তের গহীন এলাকায় গিয়ে ব্যবসায়িক পার্টনারদের সহায়তায় আশ্রয় নিচ্ছে। এছাড়া পাসপোর্টধারীদের কৌশলে সৌদি, দুবাই, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পালানোর হিড়িক পড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।

এদিকে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর ইয়াবা গডফাদার ও তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মাছ-মাংস ও সবজির বাজারদাম কমে ক্রমশ দরিদ্র জনসাধারণের নাগালে আসছে।

অপরদিকে ঈদ উপলক্ষ্যে অভিজাত দোকান সমূহে কাঙ্ক্ষিত বেচা-বিক্রি না হওয়ায় এখন স্থানীয় দোকান মালিকেরাও এক প্রকার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

নিউজটি টেকনাফ বিভাগে প্রকাশ করা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *