ইয়াবা কারবারীদের অবৈধ বিলাস বহুল প্রাসাদ জব্দ করা হবে


কক্সবাজার প্রতিনিধি:

মাদক বিরোধী অভিযানের পর আত্মগোপনে রয়েছে টেকনাফে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। ইয়াবার টাকায় তৈরি তাদের বিলাস বহুল প্রাসাদ খালি পড়ে আছে। ওইসব প্রাসাদের তালিকা করা হয়েছে। প্রাসাদগুলো অতি শীঘ্রই জব্দ করে সরকারি কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হবে।

মঙ্গলবার(২৬ জুন) সকালে বিয়াম ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান গৌরবান্বিত। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গৌরবের এই অভিযানে অংশীদার হতে হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীদের আলাদাভাবে সম্মানিত করা হবে বলেও জানান।

জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট সাইফুল আফসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল হাসান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা, সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর ও ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি ফজলে রাব্বি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার ড.একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। ক্রমান্বয়ে সব মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। বাদ পড়া মাদক কারবারীদের নতুন তালিকা করার কাজ এগিয়ে রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা প্রয়োজন। রাস্তায় তারা হাটলে যেন কেউ সালাম না দেয়। যে কোন স্থানে বসতে চাইলে চেয়ারও দেয়া যাবে না। যদি মাদক ব্যবসায়ীরা জনপ্রতিনিধি হতে চাইলে। ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের দমন করতে হবে। অভিভাবকদের নিজ সন্তানদের প্রতি তদারকি রাখা দরকার। যাতে তারা ভুল পথে পা না মাড়ায়। জানতে হবে সন্তানদের টাকার উৎস।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোমেন মণ্ডল। সভায় মাদকের করাল গ্রাস থেকে ফিরে আসা ১০জন যুবককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিরা। দীর্ঘ ২০ মাদকের সাথে জড়ানোর কালো ইতিহাস নিয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জাহাঙ্গীর আলম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সুপার বজলুল রশিদ আখন্দ, সদর ইএনও মো. নোমান হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়, জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবদুল মালেক তালুকদার। পরে অতিথিরা রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এরপর বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *