parbattanews bangladesh

ইউপিডিএফ ভেঙে ১১ সদস্যের পাল্টা কমিটি: প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক,খাগড়াছড়ি:

অবশেষে ভেঙেই গেল পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। ১১ সদস্যের পাল্টা কমিটি গঠনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করলো ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) নামে অপর একটি সংগঠনের। প্রতিবাদে অপর গ্রুপ মাদক-সন্ত্রাস দুর্বৃত্ত প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং এ মিছিল থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ ডাকা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরের খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে ইউপিডিএফ’র একাংশ সাংবাদিক সম্মেলন আহ্বান করে। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রসীত বিকাশ খীসা ও সঞ্চয় চাকমার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে ইউপিডিএফ’র আন্দোলন পরিচালনার কৌশল ও পদ্ধতি সঠিক না হওয়ার কারণে ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা সঞ্চয় ও দিপ্তী শঙ্করসহ অনেকে দল ত্যাগ করেছেন।

সম্মেলনে আরো বলা হয়, দল ত্যাগ করার অপরাধে অনেক নেতাকর্মীকে মেরে ফেলা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক,বলপ্রয়োগের রাজনীতি, চাঁদাবাজি, গুম, খুন ও অপহরণের রাজনীতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস বর্জনের রাজনীতি, এমনকি অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপে প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রতিরোধের চেষ্টার রাজনীতি করে যাচ্ছে ইউপিডিএফ প্রসীত খীসা গ্রুপ।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইউপিডিএফ মুখে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের কথা বললেও এ পর্যন্ত ১০জনের অধিক দলীয় নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইউপিডিএফ’র অনেক নেতা এখন পকেট ভারী নেতা হিসেবে পরিচিত। মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি হয়ে নীতিহীন, আদর্শহীন, লক্ষ্যভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের আর্থিকদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। ইউপিডিএফ’র বর্তমান নেতৃত্ব জুম্ম জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

এ সকল বাস্তবতায় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সচেতন জুম্ম জনগণের সমর্থনে সেই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী নেতাদের খোলস থেকে বেড়িয়ে আসতে ইউপিডিএফের রাঙ্গামাটি জেলার সাবেক কর্ডিনেটর তপন জ্যোতি চাকমাকে আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা সমন্বয়ক জলেয়া চাকমাকে সদস্য সচিব সচিব করে ১১ সদস্যের নতুন দল ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) দলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, নানিয়ারচর থানার সাবেক সমন্বয়ক উজ্জ্বল কান্তি চাকমা, সাবেক উপজেলা সমন্বয়ক রিপন চাকমা, বাঘাইছড়ির সাবেক অফিস সহকারী সত্য রঞ্জন চাকমা, থানা কোর্ডিনেটর আলোকময় চাকমা, কেন্দ্রীয় যুব ফোরামের সদস্য মিটন চাকমা, সাবেক জেলা কর্ডিনেটর পুলু মার্মা ও সাবেক যুব ফোরাম নেতা সোনামনি চাকমা।

এদিকে নব গঠিত ইউপিডিএফ’র কমিটিকে রাষ্ট্রীয় মদদে নব্য মুখোশ-বোরকা বাহিনী আখ্যায়িত করে অপর গ্রুপ মাদক-সন্ত্রাস দুর্বৃত্ত প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার একই ব্যানারে খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। পার্বত্যনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ইউপিডিএফ(প্রসীত) অংশের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির স্বাক্ষরের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পন করে জনসংহতি সমিতির সদস্যরা। আর ঐদিনই প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ানে শত শত কালো পতাকা উত্তোলন করে অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানকে ধিক্কার জানানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। শুরু হয় সন্তু ও প্রসীতের নেতৃত্বে দুই সংগঠনের আধিপত্য রক্ষার লড়াই। এদিকে ২০০৮ সালে জেএসএস ভেঙ্গে সুধা সিন্দু খীসার নেতৃত্বে গঠিত হয় জেএসএস(এমএন) গ্রুপ। এবার শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘাত। কখনো জেএসএস-ইউপিডিএফ আবার কখনো জেএসএস(সন্তু)-জেএসএস(এমএন) কিম্বা কখনো, কখনো নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে। এই সংঘর্ষে এ প্রাণ হারিয়েছে পাহাড়ের অন্তত সাড়ে ৬শ শতাধিক প্রাণোচ্ছল যুবক। এছাড়াও সহস্রাধিক আহত হয়েছে।