ইউপিডিএফের সাথে সিএইচটি কমিশনের বৈঠক অপহরণ-চাঁদাবাজিকে উস্কে দিতে পারে


04.07.2014_Cht Comision & Updf Sitting NEWS

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট :

পার্বত্য চট্টগ্রামের অনিবন্ধিত আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ সমর্থিত বিভিন্ন পাহাড়ী সংগঠনের সাথে খাগড়াছড়ি সফররত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিএইচটি) রুদ্ধদ্বার বৈঠক নিয়ে নানামুখী আলোচনার ঝড় উঠেছে জেলাবাসীর মধ্যে। এ বৈঠক কিসের ইঙ্গিত বহন করে এমন প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে সচেতন মহলে। ইউপিডিএফ ছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলার চার পাহাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে এ কমিশন

পাহাড়ের নাম প্রকাশে একাধিক মহল প্রশ্ন রেখে বলেন, বিভিন্ন সময় বাঙ্গালীরা নির্যাতনের শিকার হলে সিএইচটি কমিশন কোথায় যায়। তখন তো তাদের কোন ভুমিকা লক্ষ্য করা যায় না। অথচ পাহাড়ীরা যে কোন কাল্পনিক অভিযোগ করলেই তথাকথিত সিএইচটি কমিশনসহ অনেকেই শালিস বিচার করতে চলে আসেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের (সিএইচটি) একপেশে বৈঠক পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজির মতো ঘটনাকে উস্কে দিতে পারে। তাছাড়া অতীতে সিএইচটি কমিশিন পাহাড় ত্যাগ করার পর বড় ধরণের দাঙ্গা হয়েছে কয়েকবার। কাজেই এবারের বৈঠক নিয়েও জনমনে নানা সন্দেহ বিরাজ করছে।

 বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বৈঠকের সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সিএইচটি কমিশনের পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জেলার সচেতন মহল। তাদের মতে সুলতানা কামালের নেতৃত্বে সিএইচটি কমিশন বিশেষ মহলের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে পাহাড়ের পথে পাড়ি জমিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সুত্রে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলটি নেতৃবৃন্দ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে খাগড়াছড়ি সদরে ইউপিডিএফের ঘাটি হিসেবে পরিচিত স্বনির্ভস্থ হুয়াঙ বোইও-বা হলরুমে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র সাথে সাক্ষাত ও মতবিনিময় করেছেন। কমিশনের নেতৃবৃন্দ একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় টঙ রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে হিল উইমেন্স ফেডারেশন সহ ইউপিডিএফ সমর্থিত বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথেও মতবিনিময় করে।

পৃথক পৃথক ভাবে মতনিবিময়কালে সিএইচটি কমিশনের কো-চেয়ারম্যান ও তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, কমিশনের সদস্য খুশী কবীর, স্বপন আদনান, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও হানা শামস আহমেদ কমিশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় নেতা সচিব চাকমা পার্বত্য শান্তি চুক্তির পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরের জন্য সিএইচটি কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ভূমি বেদখল, নারী নির্যাতন আগের চেয়ে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসবের সাথে যুক্ত থাকায় পরিস্থিতির তেমন কোন পরিবর্তন ঘটছে না বলেও অভিযোগ করা হয় ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে।

কমিশনের নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়ন-নির্যাতন, ভূমি বেদখলের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর থেকে উত্তরণের জন্য করণীয় নির্ধারণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বলে সিএইচটিনিউজডটকম-এ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত এবং এর থেকে কিভাবে উত্তরণ ঘটানো যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়।

পৃথক পৃথক মতবিনিময়কালে ইউপিডিএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা সচিব চাকমা, প্রদীপন খীসা, সদস্য নিরন চাকমা, রিকো চাকমা ও অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাদ্রী চাকমা, সাংঠনিক সম্পাদক রিনা চাকমা, সাজেক নারী সমাজের সভাপতি নিরূপা চাকমা ও জ্যোৎস্না রাণী চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী সমাজের নেত্রী কাজলী ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের নেত্রী অপরাজিতা খীসা ও সোহেলী চাকমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *