ইউপিডিএফের জুম্মল্যান্ড স্বপ্নভঙ্গ ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন প্রেক্ষাপট


আহমেদ বুলবুল

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রবিরোধী এক ভয়ানক শক্তির নাম ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফ।  ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম যখন এক দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ পেরিয়ে শান্তির পথে পরিচালিত হচ্ছিল ঠিক তখনই জনসংহতি সমিতির উগ্রবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারের এই সাধারণ সাধারণ ক্ষমা, বদান্যতা ও উদারতার সুযোগ না নিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়।  প্রকাশ্যে তারা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্ত্বশাসনের কথা বললেও ভেতরে ভেতরে যে সেই পথ স্বাধীনতা তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভেঙে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড গঠনের প্রথম ধাপ বুঝতে কারো বিশেষজ্ঞ হতে হয় না।  শান্তিচুক্তির পর এই পাহাড়ি আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন একদিকে যেমন দেশের বিরুদ্ধে, দেশের শাসনতন্ত্র, সংবিধান, অখণ্ডতার বিরুদ্ধে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে, বাঙালির বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে গেছে।  একইভাবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পাহাড়ি সংগঠনগুলো ও নিরীহ পাহাড়ীদের উপরে ব্যাপকভাবে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, অপহরণ, বেপরোয়া, চাঁদাবাজিসহ ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে।  চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক সংগঠনের কয়েক শত উপজাতীয় সদস্য হত্যা, নির্যাতন, অপহরণ ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে।

একইভাবে সাধারণ মানুষ ও সাধারণ পাহাড়ি জনগণও এই সংগঠনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।  একই সাথে সংগঠনের নেতা সিনিয়র নেতাদের কথা না শুনলে সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের উপরে নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন ও নিপীড়ন।  এমনকি তাদের হত্যা পর্যন্ত করা হয়েছে।  একই সাথে চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে এই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে।  সংগঠনের নামে সাধারণ সদস্যদের দিয়ে চাঁদাবাজি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।  গতবছর খাগড়াছড়িতে এই সংগঠনের এক সিনিয়র নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ নগদ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে।  এই বিপুল টাকার উৎস কোথায়, কেনই বা তার কাছে এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা রক্ষিত ছিল এর জবাব কারো কাছে নেই।

সম্প্রতি মিতালী চাকমা নামের এক কলেজ ছাত্রীকে দলে যোগ দেয়ার আহ্বান জানালে সে তা অস্বীকার করে।  এতে মিতালী চাকমাকে অপহরণ করে প্রায় তিনমাস ধরে ধর্ষণ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।  সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের এরকম স্বৈরাচারী মনোভাব, সাধারণ কর্মীদের উপরে অত্যাচার, নিপীড়ন, নারীর শ্লীলতাহানির এবং সংগঠনের অর্থ লুন্ঠন করে ব্যক্তিগত বিলাস-ব্যসনে ব্যয় করায় এই সংগঠনের ভেতরে অনেক দিন ধরেই সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।  কিন্তু বিরোধিতার পরিণাম- মৃত্যুর ভয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে কেউ রাজি হয় না সহজে।

২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর ইউপিডিএফ এর সামরিক শাখার সাবেক কমান্ডার তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা সর্বপ্রথম সংগঠনের নেতাদের নানা অনিয়ম, অনাচার ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করে খাগড়াছড়ির একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটায়।  এই সংগঠন বই, পুস্তিকা, লিফলেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের নানা আর্থিক অনিয়ম, দলের মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব, দলীয় সিনিয়র নেতাদের বিভিন্ন প্রকার অন্যায় কার্যক্রমের কথা প্রকাশ করে দেয়।  এতে বিপাকে পড়ে যায় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ।  উপরের যে আলোচনাটুকু করা হলো সে আলোচনাটুকুও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর প্রকাশিত একটি পুস্তিকার আলোকে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুরুতেই এই সংগঠন এ সংগঠন আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে ইউপিডিএফের ভেতরে অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত সাধারণ কর্মীরা দলে দলে তপন জ্যোতি বর্মা সাথে হাত মেলায়।  এর ফলে ইউপিডিএফ হীনবল এবং ক্ষীণবল হতে থাকে।  ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক-এর সাথে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের নিয়মিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  এই সংঘর্ষে দুই দলেরই বেশকিছু

নেতাকর্মী হতাহত হয়।  এর মাধ্যমে ইউপিডিএফ তাদের আধিপত্য বিস্তারকারী বেশ কিছু এলাকা হারিয়ে ফেলে এবং এসকল এলাকা ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।  বিশেষ করে নানিয়ারচর উপজেলা, মহালছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আরেকটি আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য জনসংহতি সমিতির অন্য একটি ফ্রাকশন জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর সাথে সৌহার্দ্য স্থাপন করায় তাদের সম্মিলিত শক্তি অনেক বৃদ্ধি পায়।  এই প্রেক্ষাপটে ইউপিডিএফ এর পক্ষে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে ইউপিডিএফ-এর দুই নেত্রী দয়া সোনা চাকমা ও মন্টি চাকমা অপহৃত হওয়ার পর সক্রিয় মহিলা শাখা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।  চরম বৈরিতাপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৎকালীন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হিংসা ও হানাহানি বন্ধের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার ইউপিডিএফ নেতৃবৃন্দকে সন্ত্রাসের নীতি, চাঁদাবাজি, রাহাজানির পথ পরিহার করে সন্ত্রাসী ক্যাডারদের স্বাভাবিক সামাজিক একত্রীকরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।  শুধুমাত্র সন্ত্রাসী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই যে পাহাড়ি দলগুলোর বিবাদ মিটিয়ে ফেলা যায়, এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও ইউপিডিএফ উত্তরোত্তর প্রতিহিংসার আগুনে অন্যান্য পাহাড়ি দলগুলোর কণ্ঠস্বর স্বৈরাচারী কায়দায় ধুলায় মিশিয়ে দেয়ার নীতি বেছে নেয়।

তৎকালীন সেনা রিজিয়ন যখন সাধারণ পাহাড়ি জনগণের সন্ত্রাস বিরোধী উন্নয়নমুখী জাতীয় চেতনাকে মং সার্কেল চীফ মুক্তিযোদ্ধা মং প্রু সেইন ও পাহাড়ি গুণীজন সম্মাননা এবং প্রত্যন্ত এলাকার পাহাড়িদের জন্য চক্ষু শিবির ও বার্ন রোগীর চিকিৎসা শিবিরসহ  সার্বজনীন বিভিন্ন সামাজিক গঠনমুলক উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।  ঠিক তখনই উগ্র ইউপিডিএফ পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপগুলো ব্যবহার করে ভিন্নমতাবলম্বীদের নিঃশেষ করে দেয়া ও চাঁদাবাজির একচেটিয়া রাজত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার নীতিমালা গ্রহণ করে।  কিন্তু বিধিবাম।  সন্ত্রাসীদের সামাজিক একত্রীকরণের মাধ্যমে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফেরার আহবানে সাড়া না দিয়ে ইউপিডিএফ নিজেদের আত্মহননের পথ বেছে নেয়- যা তৎকালীন পার্বত্য পরিস্থিতির কিছুটা উত্তপ্ত করে তোলে।

এহেন পরিস্থিতিতে ইউপিডিএফ কর্তৃক জুম্ম রাষ্ট্র গড়ার নীরব সশস্ত্র বিপ্লবের ধাঁচে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ণ ইস্যুতে প্রশাসনকে জিম্মি করাসহ, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মাধ্যমে জোরপূর্বক পাহাড়ি জনগনের ভোট নিজেদের পক্ষে নেয়ার সমস্ত পরিকল্পনা উন্মুক্ত হয়ে যায়।  এমতাবস্থায় নবগঠিত ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক যুব শাখা ও ছাত্র শাখার দাপটের কাছে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ অসহায় হয়ে পড়লে তারা মরণ কামড়ের জন্য ওঁত পেতে থাকে।  সেই সুযোগ এনে দেয় ২০১৮ সালের ৩ মে নানিয়ারচরে নিজ কার্যালয়ের সামনে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা) গ্রুপের নির্বাচিত চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়।  সেসময় জেএসএসের সংস্কারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এই হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ জড়িত।  এর একদিন পর ৫ মে শক্তিমানের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মহালছড়িতে ইউপিডিএফের আততায়ীর অ্যামবুশে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতা তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মা পাঁচজন সহযোগীসহ নির্মমভাবে খুন হন।  গণতান্ত্রিক এর পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পক্ষে জন্য দায়ী করা হয় ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রপকে।

শুধু তাই নয় ইউপিডিএফ একই কায়দায়  জেএসএস সংস্কার ও অন্যান্য নেতাদের হিটলিষ্ট তৈরি করে পবিত্র রমজান মাসের সুযোগ নিয়ে চিরতরে নিঃশেষ করে ফেলারও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেয়।

তৎকালীন সেনা রিজিয়ন সমস্ত খাগড়াছড়ির স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ ধাঁচের অভিযানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুরো রমজান মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক টাস্কফোর্স মোতায়েন করে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেয়।  পবিত্র রোজার মাসে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দিবারাত্রি বিশেষ অভিযান করে ইউপিডিএফ প্রসীত এর সদম্ভ  সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সহিংস অবস্থানকে একের পর এক নিষ্ক্রিয় করে দেয়।  ইউপিডিএফের (প্রসীত) ক্যাডাররা সাধু সেজে ২০১৫-১৬ সালের মতো একই ধারায় স্বীয় স্বার্থে ভিন্ন মতাবলম্বী পাহাড়ি দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য নিরাপত্তাবাহিনীকে উদ্দেশ্যমূলক আভিযানিক তথ্য প্রদানের গাঁজাটে অফার এক্ষেত্রে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

এতে পাহাড়ি দলগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ  রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হওয়ায় ইউপিডিএফ কর্তৃক নিপীড়নের শিকার অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পরিবার ও সাধারণ জনগনের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।  এছাড়াও ব্যবসায়ীরাসহ সকল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনাকারীরা নির্বিঘ্নে খাগড়াছড়িতে চাপ মুক্ত পরিবেশে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গণঅনাস্থা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে।  সমতলের সাধারণ জনগণ ও সকল মিডিয়ার কর্মীদের মাঝে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী স্বৈরাচারী ও সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী স্বরূপ উন্মোচিত হয় এবং সকল মিডিয়া কর্তৃক  নির্ভয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় গণমাধ্যমে বিশেষত ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ইউপিডিএফের ঘৃণাপূর্ণ সাম্প্রদায়িক ক্যাম্পেইন ও সন্ত্রাসী চরিত্র সম্পর্কে ব্যাপক গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়- যাতে আন্তর্জাতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে আদিবাসী ব্যানারের আড়ালে ইউপিডিএফের জুম্মল্যান্ড মিশন খোলাসা হয়ে পড়ে।

এমনকি পাহাড়ি দলগুলোর প্রতি সহমর্মী দৈনিক প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে বিবদমান পাহাড়ি দলগুলোর হানাহানিতে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের অবৈধ চাঁদাবাজি ও একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের একগুঁয়েমি নীতিকে সকল হানাহানির  মুল কারণ হিসাবে উপস্হাপন করে।  যা ইউপিডিএফ এর মুখপাত্র  CHTNews পোর্টালে হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্তমুলক অপর একটি মতামতে খোলাসা হয়ে পড়ে।  যদিও প্রথম আলোর প্রতিবেদক সমস্যার গভীরতা উপলদ্ধি করে অনুসন্ধানীমুলক মতামতের ভিত্তিতে সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক  রাজনৈতিক ধারাকে প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্ব আরোপ করে, এরপরও খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের শক্তিশালী অবস্থান স্বনির্ভর এলাকাকে বলয় করে একের পর এক চোরাগোপ্তা হামলা করে ও জেএসএস সংস্কার ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক এর নিরীহ সাধারণ সমর্থক কর্মীদের ফোন করে ভয়-ভীতির মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেষ্টা চালাতে থাকে।

এমনকি বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে (বৈসাবি/ঈদ) সাধারণ কর্মী সমর্থক খুনের মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টির জঘন্য কার্যক্রম চালাতে থাকে।  কিন্তু সকল চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকল খুনের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপিডিএফ ক্যাডারদের ও নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হতে থাকে – যা পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনের স্বাভাবিক ধারাকে প্রতিষ্ঠা করে ইউপিডিএফ-এর সমাজবিরোধী কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয়।  মূলত ভূমি ও কিয়াং ইস্যুসহ বিভিন্ন উস্কানিমূলক ইস্যু তৈরির মাধ্যমে ইউপিডিএফ পাহাড়ি-বাঙালি দাঙ্গা সৃষ্টির বারবার চেষ্টা চালালেও সেনা রিজিয়ন, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ হেডম্যান কার্বারীদের কার্যকরী সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে তা সমাধান করে ফেলতে সফল হয়।

এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলার জাতীয় রাজনীতিতে বিবদমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণসচেতনতা তৈরীর মাধ্যমে কোন্দল মুক্ত হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে।  খাগড়াছড়ির ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত ও ক্রান্তিকালীন হতাশার মাঝে সুযোগ সন্ধানী ইউপিডিএফ সর্বশেষ মরণকামড় দেয়ার পরিকল্পনা করে তৎকালীন বিদায়ী রিজিয়ন কমান্ডারের বিদায় আনুষ্ঠানিকতা পর্বে।  জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য বদলীর স্বাভাবিক পরিবর্তনের ওই মুহূর্তে, খাগড়াছড়ি শহরে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বনির্ভর বাজারে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে ইউপিডিএফ আশেপাশের গ্রামের কয়েক হাজার সাধারণ পাহাড়ী মহিলাদের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লাঠি দা বল্লমসহ (বাবুছড়া বিজিবি ক্যাম্প হামলার স্টাইলে) সকল প্রকার আইনি বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে শহরের নিরাপত্তা বলয়ে বিশৃঙ্খল ত্রাসের রাজত্ব তৈরীর পরিকল্পনা করে।

কিন্তু  সাধারণ পাহাড়ি  জনগণের সহায়তায় পাহাড়ি ভিন্নমতাবলম্বীদের মাঝে এ পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেলে সার্বিক সংশয় ও উদ্বেক তৈরি হয়।  এরই ফলশ্রুতিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অবৈধ চাঁদাবাজি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে পরিচিত স্বনির্ভর বাজারে বিরাজমান উপজাতীয় দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের অবতারণা হয়। এতে ইউপিডিএফ তাদের নেতৃত্ব পর্যায়ের বেশ কয়েকজন উগ্রবাদী নেতা হারায়।  যদিও অনভিপ্রেত রক্তাক্ত এই ঘটনা আইন শৃঙ্খলার উপর কিছুটা চাপ তৈরি করে। কিন্তু  সংবেদনশীল এই সময়ে খাগড়াছড়িতে কৌশলে হঠকারী পেশী শক্তির ওপর ভর করে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের সর্বশেষ প্রচেষ্টাও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।  বিদায়ী  রিজিয়ন কমান্ডার সাধারণ মানুষের সন্ত্রাস বিরোধী আস্থা বহাল রাখতে, দ্রুততার সাথে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অভিজ্ঞতায় কার্যকরী সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যৌথবাহিনী দ্বারা ইউপিডিএফের পরবর্তী  কৌশলী জঙ্গিবাদী কার্যক্রম ও প্রাক নির্বাচনী পুনরুত্থানকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

মুলতঃ সর্বশেষ সময়চক্রে খাগড়াছড়ির ইতিহাসে চরমপন্থী ও উগ্রবাদী জুম্মল্যান্ড নামক সন্ত্রাসী অরাজকতা অধ্যায়ের পুনরুত্থানের খলনায়ক ইউপিডিএফ(প্রসীত) নিজেদের স্বৈরাচারী চেতনার কবর নিজেরাই খুঁড়ে  উদোরপিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে ঠেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  যদিও ইউপিডিএফের(প্রসীত) প্রবাসী আয়েশে স্বপ্নচারী অভিবাসীরা অদ্যাবধি ব্যাপক উদ্দীপনার মাধ্যমে সাধারণ সমর্থকদের ধ্বংসের পথে  দিকভ্রান্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের পৃষ্ঠপোষক সকল অনলাইন পোর্টাল মাধ্যমগুলোতে স্বপ্নভঙ্গের হতাশার সুরই অনেক বেশি বেজে উঠছে ।  এভাবেই পাহাড়ি-বাঙালি সর্বমহলে ইউপিডিএফের সহিংসতা ও ত্রাসের বিপরীতে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে সামাজিক আন্দোলনের নতুন প্রেক্ষাপটের আবির্ভাব হয়।  কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জঙ্গিবাদী ইউপিডিএফ তাদের সশস্ত্র ত্রাসের রাজত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য যেকোন সময় বড় ধরনের হানাহানির ঘটনা সৃষ্টি করতে পারে।  তাই নিরাপত্তাবাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত কার্যক্রমের চলমান এ ধারা অব্যাহত থাকলে ইউপিডিএফের অলীক স্বপ্নের জুম্মল্যান্ড ফুলঝুরি ও ঘুঁণে ধরা উগ্রবাদী রাজনীতি শীঘ্রই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে স্থান পাবে।

এখনই সময় ইউপিডিএফ নেতৃত্বের চিন্তা-চেতনার হঠকারিতা ও দৈনতা মুক্ত হওয়ার।  যদি ইউপিডিএফ নীরবে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনীর অস্ত্র সমর্পণ করে সমাজে স্বাভাবিক ধারার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে, তবেই পার্বত্য এলাকায় হিংসা ও হানাহানি হতে উন্নয়নের, শান্তির ও গঠনমূলক পাহাড়ি স্বকীয়তার ধারায় ফিরে আসা অবশ্যই সকল পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক।  একইসাথে  আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ইউপিডিএফের নিভু নিভু জুম্মবাদী স্বপ্ন চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে, খাগড়াছড়ি জেলার আপামর পাহড়ি-বাঙালি সম্মিলিত জনগোষ্ঠী দলমত নির্বিশেষে  কায়মনোবাক্যে কামনা করছে বলে দেখা যাচ্ছে।


 মুক্তমতে প্রকাশিত এই লেখার তথ্য, বিষয়বস্তু ও আলোচনার দায় একান্তই লেখকের। পার্বত্যনিউজের সম্পাদকীয় নীতি এক্ষেত্রে প্রযোজন্য নয়।

2 thoughts on “ইউপিডিএফের জুম্মল্যান্ড স্বপ্নভঙ্গ ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন প্রেক্ষাপট

  1. উপজাতী সন্ত্রাসীদের হাতে সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য শহীদ হয়েছেন।সরকারের উচিত এই সন্ত্রাসিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে তাদের সমুলে ধ্বংস করে দেয়া।

  2. তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পাদকের কিছু মৌলিক নীতি থাকা একান্তই বাঞ্জনীয়।ভূলে ভরা পাঠ্যবই যেমন শিশুর বিকৃত মানসিকতা গঠনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে তেমনি উল্লিখিত ভূলে ভরা এবং মনগড়া প্রতিবেদনটি নিতান্তই সহজ সরল জনগণের মগজ ধোলাইয়ের হাতিয়ারে পরিণত হবে।পরিণামে পাহাড়ে শান্তিতে বসবাসরত বাঙালীদের কিয়দংশ কে পাহাড়ী বিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন করে তোলা হবে এবং সম্প্রীতির বন্ধন ছিন্ন করবে।আশা করি, যথাযত যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সম্পাদকের শুভ বুদ্ধির হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *