ইউপিডিএফ(মূল) সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের প্রধান বর্মাসহ নিহত ৫, আহত ৮


নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি/রাঙামাটি:

ইউপিডিএফের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আবারও সন্ত্রাসীদের নির্মম বুলেট কেড়ে নিলো ৫টি তাজা প্রাণ। রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবি সমিতির সদস্য এডভোকেট শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় যাওয়ার পথে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট গণতান্ত্রিকের (ইউপিডিএফ বর্মা গ্রুপ) প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন নিহত এবং নয়জন গুরুতর আহত হয়েছে। শুক্রবার ( ৪মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক প্রধান তপন জ্যেতি চাকমা (৫২), ইউপিডিএফ সংস্কার সমির্থিত যুব ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা সুজন চাকমা (৩০), একই সংগঠনের খাগড়ছড়িস্থ মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি তনয় চাকমা (৩১), সেতু লাল চাকমা (৩৬) এবং মাইক্রোবাসের ড্রাইভার মো. সজিব (৩৫)।

আহতদের মধ্যে ৬জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছে, নীতি চাকমা, সুমন্ত চাকমা, দিগন্ত চাকমা, তনুজ চাকমা, প্রীতি চাকমা ও শান্তি চাকমা। নিহত ও আহতরা সকলেই খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

আজ দুপুর ১২টার দিকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে বেতছড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি চলে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এত মানুষ হতাহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জেএসএস(এমএন) গ্রুপ এ নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য প্রসীতের ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। গুলিতে আহত জীবন্ত চাকমা নিজেকে সাধারণ গ্রামবাসী দাবী করে বলেন, ওরা সবাই যাচ্ছিলেন, সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কিন্ত তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাগড়াছড়ি সীমানা অতিক্রম করে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার বেতছড়ি পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা এলোপাথারী গুলি চালায়।

অপর আহত নীরও কুমার চাকমা জানান, ইউপিডিএফ(প্রসীত)সন্ত্রাসীরা প্রথমে ড্রাইভারকে গুলি করলে মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়। এরপর সন্ত্রাসীরা এলোপাথারী গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলে তিন নিহত হয়। আহত হয় ১০ জন। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাদের উপরও গুলি চালালে দুই পক্ষের গুলাগুলি শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পলিয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে মাইক্রোবাস চালক মো: সচিবসহ আরো দু’জন মারা যায়। নিহত ও আহতদের খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আনা হলে শহরে শোকের ছায়া নেমে আছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে ১০জনকে আনা হলে ২জন মারা যায়। আশংকাজনক হওয়ায় আহতদের মধ্যে ৪জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির(এমএন) কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক(এমএন) ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা এ নির্মম হত্যাকান্ডের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসা গ্রুপকে দায়ী করেছে।

তবে হত্যাকান্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের প্রচার ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান নিরণ চাকমা। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে। পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ, বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি শক্তিমান চাকমা। এঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফ প্রসিত গ্রুপকে দায়ী করছে জেএসএস এনএম লারমা সমর্থিতরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *