আলীকদমে ৮০জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারি করণে অনিয়মের অভিযোগ


Lama Photo-1, 22 May 2017 copy

লামা প্রতিনিধি:

আলীকদম উপজেলায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারি করণে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় আলীকদমে ইউএনডিপি- সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের ২০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছেন। জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর কাগজে পত্রে ভুয়া শিক্ষকদের একটি তালিকা প্রনয়ন করে প্রকৃত কর্মরত শিক্ষকদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

প্রেরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ইউএনডিপি পার্বত্য চট্টগ্রাম মৌলিক শিক্ষা প্রকল্পের অধিনে আলীকদম উপজেলায় ২০টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০১৫ সন থেকে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্প চলমান অবস্থায় প্রতি বিদ্যালয়ে স্থানীয় একজন শিক্ষক কর্মরত ছিল, সংশ্লিষ্টগণ অনিয়মের আশ্রয় গ্রহণের মাধ্যমে কাগজে কলমে প্রতি বিদ্যালয়ে ৪জন শিক্ষককে কর্মরত দেখিয়েছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইউএনডিপি’র বর্ণিত প্রকল্পের ২০টি বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতি বিদ্যালয়ে ৪জন করে মোট ৮০জন শিক্ষকের চাকুরী সরকারি করা হবে। শিক্ষক নবীরুন ত্রিপুরা, বিন্দু চন্দ্র ত্রিপুরা, গীতা ত্রিপুরা ও তপন দেবী তঞ্চগ্যা জানিয়েছেন, জাতীয়করণের পর শিক্ষক তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মারাং রাইতম লাংথই পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি মারাং ম্রো কমান্ডার, ইয়াংরি মাংক্রাত পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি ইয়াংরিং ম্রো, বিদ্যামনি পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি সতিচন্দ্র ত্রিপুরা, লাওলিং ন্যাদয় কাম্পুক পাড়ার সভাপতি ইয়াংএ ম্রো ও মেনক্য মেনকক পাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি মাংক্রি ম্রো জানিয়েছে প্রায় ৩ বছর ধরে প্রকল্প সহায়তা বন্ধ।

বর্তমানে কাগজে পত্রে দেখানো শিক্ষকগণ কখনো অত্র বিদ্যালয় গুলোতে আসে নাই। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন তাদের চিনে না। কাগজে কলমে দেখানো ভুয়া শিক্ষকদের চাকুরী সরকারি না করে জেলা পরিষদের মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসাধারণ।

আলীকদম উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিদ্যালয়গুলো সরকারি করণের প্রজ্ঞাপন জারির পর ইউএনডিপি’র জনৈক সাবেক কর্মী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে শিক্ষকদের চাকুরী সরকারি করণের জন্য প্রকাশ্য উৎকোচ আদায় করছে। বিগত দিনে বিদ্যালয়ে কখনো গমন করে নাই এবং বিদ্যালয় চিনে না এমন লোকজনকে শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকুরীতে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। জন প্রতি লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে সমাপ্ত প্রকল্পের জনৈক কর্মীর বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয় গুলো জাতীয়করণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পর পরই ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮০জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্য উৎকোচ গ্রহণের মহোৎসব চলছে। এক পর্যায়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জন প্রতি লাখ লাখ টাকা আদায় করেছেন। ইউএনডিপি বান্দরবান জেলার কো-অর্ডিনেটর খুশি রাই ত্রিপুরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয় গুলো সরকারি করণের বিষয়টি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

আলীকদম উপজেলার শিক্ষা অফিসার বাসু দেব কুমার সানা জানিয়েছেন দুর্গমের বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক কর্মরত না থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।

বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভা:) রিটন কুমার বড়ুয়া জানান, বিদ্যালয় জাতীয় করণের প্রজ্ঞাপন জারির কপি পেয়েছি। শিক্ষকদের সরকারি চাকুরীতে নিযুক্তির বিষয়ে কোন পত্র আমরা এখনো পায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *