আলীকদমে গরু ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় ১১ ম্রো সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার


লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার পোয়া মুহুরীতে গরু ব্যবসায়ী হেলাল মিয়াকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ১১ জন ম্রো সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী।

এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. ইলিয়াছ বাদী হয়ে ৯ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে আলীকদম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

২৫ সেপ্টেম্বর আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের মোক্তার সর্দার পাড়ার মো. ইউনূসের ছেলে মো. হেলাল মিয়া ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গরু ক্রয়ের জন্য প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুর্গমের পোয়া মুহুরীতে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেনি।

সোমবার(১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে পোয়া মুহুরী হতে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় হেলালের গলা কাটা গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। আটককৃতরা হল- কুরুক পাতা ইউনিয়নের লোহব ম্রো(৪০), মারান ম্রো(৫০), মেনচুক ম্রো(৩০), পাচুয়া ম্রো(৩৫), মেনতাং ম্রো(৩০) এবং নয়াপাড়া ইউনিয়নের মাংক্রাত ম্রো(২৮) ও মাংইন ম্রো(২৮)। গ্রেফতারকৃত লোহব ম্রো মুরুং ন্যাশনাল ডেমোক্রেসী পার্টির অন্যতম নেতা।

মঙ্গলবার(২৬ অক্টোবর) বিকালে ময়না তদন্ত শেষে নিহত হেলাল মিয়া (২৫) এর লাশ নয়া পাড়া পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানা গেছে, মুরুং ন্যাশনাল ডেমোক্রেসী পার্টি ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর অস্ত্র সহকারে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ঘোষণা দেন। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকৃত কিছু ম্রোও স্থানীয় কিছু ম্রো যুবক কুরুক পাতা ও পোয়া মুহুরী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে খুন, ডাকাতি ও ভয় ভীতি দেখিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে যাচ্ছে।

২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল আলীকদম থানচি সড়কের ২৮ কিলোমিটার এলাকায় গরু ব্যবসায়ী আবু বক্কর (৪০), শাহাব উদ্দিন (২৫) ও আফছার আলী (৩৫) কে অপহরণ করে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। ১৮ এপ্রিল আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী ও জনসাধারণ এই তিন গরু ব্যবসায়ীর বিভৎস্য মৃত দেহ উদ্ধার করেছে।

২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পান বাজার এলাকার লালন শাহ ফকিরের ছেলে বোরহান উদ্দিনকে অপহরণ করে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। অপহরণের ৪৫ ঘন্টা পর আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিলোমিটার পয়েন্টের কামরাঙ্গা ঝিরি সড়ক হতে প্রায় ১ হাজার মিটার গভীরের একটি ছড়া হতে তার ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী।

লামা ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন জানিয়েছেন, গত ১০ মাস পূর্বে মেরাখোলা মুসলিম পাড়ার গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৫৬) গরু ক্রয়ের জন্য গিয়ে এখনো ফিরে আসেনি। অভিযোগ উঠেছে মুরুং ন্যাশনাল ডেমোক্রেসী পার্টি অস্ত্র সহকারে আত্মসমর্পণ করলেও অনেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করেনি। পোয়া মুহুরী ও কুরুক পাতায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানা রয়েছে বলে স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছেন।

আলীকদম থানার উপ-পরিদর্শক মো. আজমগীর জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রকৃত দোষীদেরকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

আলীকদম থানা অফিসার ইনচার্জ রফিক উল্লাহ জানান, হেলাল হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার ঘটনায় জড়িত সকল আসামীদেরকে গ্রেফতারে পুলিশসহ আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *