আরাকান আর্মির হামলায় ৩০ বার্মিজ সেনা নিহত: সীমান্তে সেনা-বিজিবি বিশেষ অভিযান


বার্মিজ সেনা

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

মিয়ানমারের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি দাবী করেছে তাদের অতর্কিত হামলায় ৩০ বার্মিজ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। যদিও মিয়ানমার সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ প্রাণহানীর বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ৩ মার্চ বিকাল ৫ টার দিকে আরাকানের বুচিডং নামক স্থানে সংঘটিত ওই সংঘর্ষে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দুইটি ট্রাকও ভষ্মিভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে এই হামলার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপারেশন শুরু করেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যেন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বিজিবি চট্টগ্রাম অঞ্চল কমান্ডারকে অনুরোধ জানায়। বিজিপি’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে যাতে সেদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাড়া খেয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে না পারে।

খিং থুখা নামে আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৫৬ লাইটেনিং ব্যাটালিয়নের একটি কনভয়ের উপর আরাকানের বুচিডং টাউনশিপের কাছে এম্বুশে আরাকান আর্মির ৫ম ব্রিগ্রেডের একটি দল রকেট প্রপেলড গ্রেনেড লঞ্চারসহ ভারী অস্ত্র দ্বারা হামলা করে এই সেনাসদস্যদের হত্যা করে। এসময় আরো বেশ কিছু সেনাসদস্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত সেনা সদস্যদের মধ্যে মেজর ও ক্যপ্টেন পদমর্যাদার দুইজন অফিসার রয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় তাদের হামলায় সেনাবাহিনীর দুইটি ট্রাক ভষ্মিভূত হয়।

খিং থুখা আরো জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১ মার্চ, ২ মার্চ ও ৩ মার্চ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির ৫ম ব্রিগ্রেডের কয়েকদফা সংঘর্ষ হয়। ফলে সেনাবাহিনী অত্র এলাকায় অতিরিক্ত শক্তিবৃদ্ধি করে। তারা সেনাবাহিনীর এই বাড়তি শক্তি ধংস করে দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে তার দাবী।

মুখপাত্র দাবী করেন, সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে আরাকান আর্মির বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসাবে তারা এই অতর্কিত হামলা চালায়।

বৃহস্পতিবার বুথিডঙের একটি আদালত আরাকান আর্মির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ ব্যক্তির ফাঁসির রায় দিয়েছে।এই নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে ৩০ জনকে একই অভিযোগে শাস্তি দিয়েছে আদালত।

এদিকে উক্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ৮ মার্চ থেকে বান্দরবানের মায়ানমার সীমান্তে সেনা-বিজিবির আবারো যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র প্রায় আড়াইশত সদস্য এই অপারেশনে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা ঠেকাতে আলীকদমের পুয়ামুহুরী সীমান্তের ৬২ নং পিলার থেকে শুরু করে ৬৮ নং পিলার পর্যন্ত এলাকায় চলছে এই অভিযান।

সীমান্ত দিয়ে যাতে মায়ানমারের কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী এদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষে সীমান্তে চিরুনী অভিযান চালানো হচ্ছে বলে।

সন্ত্রাসীরা যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য মায়ানমার সরকার বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকাপ্টারে করে সীমান্তে বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি’র কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, সীমান্ত অনেকটাই সিল করে দেয়া হয়েছে। যাতে কোন সন্ত্রাসীই এদেশে প্রবেশ করতে না পারে।

উল্লেখ্য গত বছরের ২৬ আগষ্ট বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড় মদক এলাকায় নাছালং পাড়ায় আরাকান আর্মির সদস্যরা বিজিবির উপর গুলিবর্ষণ করলে ২ বিজিবি সদস্য আহত হয়। অন্যদিকে রাঙ্গামাটির বড় থলি এলাকার সেপ্রু পাড়ায় আরাকান লিবারেশন আর্মির (এএলপি) সদস্যদের হামলায় ১ আনসার ভিডিপি সদস্য নিহত হয়। সন্ত্রাসীরা ঢাকার দুই পর্যটককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এখনো তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *