parbattanews bangladesh

আমেরিকায় আলো ছড়াচ্ছে কক্সবাজারের কিশোরী আজমাইন

রামু প্রতিনিধি:

আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের একটি সরকারি কর্মসূচিতে দূত হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কক্সবাজারের মেয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী আজমাইন জাহিদ। অঙ্গরাজ্যটির গভর্ণর কর্তৃক ‘প্রজেক্ট ৩৫১’ নামের বাৎসরিক ওয়ার্কশপে দেশটির হেভারহিল শহরের প্রতিনিধিত্ব করছে সে।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের গভর্ণর চার্লি বেকার-এর তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছর বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে আজমাইন জাহিদ।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ছাত্রীর এ সাফল্য বাঙ্গালী কমিউনিটি এবং ওই শহরের বাসিন্দাদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। প্রবাসী বাঙ্গালীদের মতে, আজমাইন সেখানে বাংলাদেশের স্বকীয়তা ও মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তাই আজমাইন জাহিদ তাদের কাছে যেন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

জানা গেছে, আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস-এর গভর্ণর পুরো রাজ্যের প্রতিটি স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণির সবচেয়ে মেধাবি ও সৃজনশীল ছাত্র-ছাত্রীদের বাছাই করে ‘প্রজেক্ট ৩৫১’তে ওয়ার্কশপের জন্য নির্বাচিত করেন। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় শ্রেষ্ঠ নেতৃত্ব গঠন করা।

উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ৩৫১টি ছোট-বড় শহর রয়েছে। প্রতিবছর প্রতিটি শহর থেকে একজন করে ছাত্র-ছাত্রী নির্বাচিত করা হয় এ ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করার জন্য। চলতি বছর হেভারহিল শহর থেকে এ প্রকল্পের দূত (এ্যাম্বাসেডর) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে কক্সবাজারের আজমাইন জাহিদ।

এদিকে জানা গেছে, আজমাইন জাহিদ কক্সবাজারের কীর্তিমান পুরুষ সাবেক সাংসদ ও রাষ্ট্রদূত মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর নাতনী এবং বর্তমান কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের ভাগনী। আজমাইন জাহিদের মা মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর কনিষ্ঠ কন্যা তানজিলা সরওয়ার রুনা আর বাবা জাহিদুল ইসলাম।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আজমাইন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের গভর্ণর চার্লি বেকার এর তত্ত্বাবধানে ‘প্রজেক্ট ৩৫১’ এ প্রথম অংশগ্রহণ করে। এর আওতায় আগামী একবছর সে আমেরিকার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয়, শিক্ষা, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে অংশ নেবে।

অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আগামী দিনের নেতৃত্ব সৃষ্টি করা আর সামাজিক দায়বদ্ধতায় উদ্দীপ্ত হয়ে সচেতন নাগরিক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেখানকার সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।

পারিবারিকসূত্রে জানা গেছে, আজমাইন জাহিদ ছোটবেলা থেকেই প্রখর মেধাসম্পন্ন। প্রথম শ্রেণি থেকে সে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে আসছে। ৪র্থ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সে প্রতিবছর স্কুল স্টুডেন্ট কাউন্সিল-এ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া সপ্তম শ্রেণী থেকে আজমাইন আমেরিকার ‘ন্যাশনাল জুনিয়র অনার সোসাইটি’র নির্বাচিত সদস্য।

বইপোকা আজমাইন ছোটবেলা থেকে লেখালেখির সাথে জড়িত। ২০১৬ সালে গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় আড়াই হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তার লেখা ‘স্নো-ফ্লাকস’ প্রথম স্থান অর্জন করে। পরে সেটি ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের জনপ্রিয় স্কুল ম্যাগাজিন ‘এ্যাপল বি’তে প্রকাশিত হয়। আজমাইন স্কুল টিবেট ক্লাবেরও সদস্য।

পড়াশোনার পাশাপাশি আজমাইন বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও উপস্থাপনা করে থাকে। অবসরে পিয়ানো বাজাতে ভালোবাসে সে। স্কুলের প্রতিনিধি হয়ে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকান্ডে সে প্রতিনিয়িত সক্রিয় থাকে। এরমধ্যে গৃহহীনদের জন্য খাবার তৈরী, বয়স্ক নাগরিকদের সাহায্য করা, স্কুলের বিভিন্ন সহায়ক কাজের ফান্ড সংগ্রহ, শহরের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতায় অংশগ্রহণ অন্যতম।

আজমাইন জাহিদ ভবিষ্যতে আরও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীল ও সেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজের ও প্রিয় স্বদেশের নাম উজ্জ্বল করার আশা ব্যক্ত করেছে। তার বাবা-মা’ও এজন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন।