আটকে আছে লামার বগাইছড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও লুলাইং পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব ফাইল


লামা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে লুলাইং পুলিশ ক্যাম্প এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়িতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব ফাইল বন্দি হয়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ।

জানা গেছে সরই ইউনিয়নের লুলাইং ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বাগাইছড়ি এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ক্যাম্প ও তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে প্রায় ১বছর পূর্বে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘদিনেও প্রস্তাবিত পুলিশ ক্যাম্প ও তদন্ত কেন্দ্র অনুমোদন না পাওয়ায় হতাশা ব্যাক্ত করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, লামা উপজেলার আয়তন ও যোগাযোগ ব্যাবস্থার কারণে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে পুরো উপজেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমন সম্ভব নয়। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ফাঁসিয়াখালীর গভীর অরণ্যে আস্তানা গড়ে তুলেছে। সন্ত্রাসীগণ অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু দিন বন্ধ থেকে পুনরায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয়। ফাঁসিয়াখালী জন সাধারণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য বগাইছড়ি এলাকায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল আলম জানান, সশস্ত্র কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ লুলাইং হয়ে লামা মৌজা পোপা ও নাইক্ষ্যং মুখে অবাধে বিচরণ করছে। সরই, গজালিয়া, ২নং লামা ও রূপসী পাড়া ইউনিয়নের বিশাল জনগোষ্ঠী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন, গজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাথোইয়াচিং মার্মা, লামা ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন ও রূপসী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান চাছিং প্রু। লুলাইং এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ বন্ধ ও জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ। যৌথ বাহিনী অভিযান চালালে সন্ত্রাসীরা সাময়িক ভাবে পালিয়ে গেলেও অভিযান শেষে পুনরায় লোকালয়ে ফিরে এসে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হয়। ইউপি চেয়ারম্যানগণ গত নভেম্বর মাসে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়  দাবি জানিয়ে বলেন, যে কোনো মুল্যে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

লামা থানা অফিসার ইনচার্জ অপেলা রাজু নাহার জানান, লুলাইং এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প এবং বাগাইছড়িতে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য পৃথক দুটি প্রস্তাব পুলিশ সুপারের মাধ্যমে সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। সদর দপ্তরে অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *