আগামী বছর থেকে বিদেশী উন্নয়ন সংস্থাসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সরাসরি প্রকল্প পরিচালনা করতে পারবে না


undp tele

স্টাফ রিপোর্টার:

পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন থেকে বিদেশী কোনো উন্নয়ন সংস্থা সরাসরি প্রকল্প অর্থায়ন ও পরিচালনা করতে পারবে না। এখন থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসকল উ্ন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা হবে তার ব্যবস্থা থাকবে সরকারের হাতে। আগামী বছর থেকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে নতুন করে ৭ বছর মেয়াদী যে উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে তার তত্ত্বাবধান করবে বাংলাদেশ সরকার।

জানা গেছে, ২০০৩ সালে শুরু হওয়া জাতিসংঘের চিটাগং হিল ট্রাক্টস ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের সেপ্টেম্বরে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা পার্বত্যনিউজকে বলেন, জাতিসংঘ ২০২২ সাল পর্যন্ত নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিয়েছে যা আমাদের কাছে প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুণগত পরিবর্তনটা হচ্ছে- এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারের হাতে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ব্যবস্থাপনা মানে প্রকল্প বাছাই, পরিচালনা, পর্যালোচনা, পরীবিক্ষণ সব কিছুই এখন থেকে সরকার করবে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পে জীবিকা, সামাজিক উন্নয়ন ও সুশাসন বিষয়ক তিনটি পিলার থাকবে এবং এর অধীনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন প্রোগাম হাতে নেওয়া হবে। এ প্রকল্পের পরিমাণ হবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার যার বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সরবরাহ করবে। এ প্রকল্পে ইউএনডিপি ছাড়াও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও আরও কয়েকটি দেশ অর্থায়ন করছে। এ রমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একাই ২০১৩ সালে সর্বাধিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে। ২০০৩ সালে যখন এ প্রকল্প শুরু হয় তখন এর বাজেট ছিল মাত্র ১.২ মিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত তিনটি জেলার উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের প্রকল্প এতদিন সাহায্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে হতো। এই সব প্রকল্প নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রকল্পসমূহ ছিল অতিমাত্রায় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী নির্ভর। সেখানকার অর্ধেক জনগোষ্ঠী বঞ্চিত বাঙালীরা এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছিল। এ ছাড়াও উন্নয়ন সংস্থার অর্থ নিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও সেবাসংস্থার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরকরণ, সাম্প্রদায়িক উ্ষ্কানী, অশান্তি সৃষ্টির মতো বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া আইনে থাকলেও এ সব প্রকল্পের ব্যয়ের সঠিক হিসাবে এসকল উন্নয়ন সংস্থা যথাযথভাবে সরকারকে প্রদান করতো না। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশী সংস্থাসমূহের সরাসরি কার্যক্রম (Direct Execution- DEX) বন্ধ করে জাতীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা (National Execution- NEX) করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীসমূহ, দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকগণ, ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দীর্ঘদিন ধরে দাবী জানিয়ে আসছিলেন। সে বিচারে সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের কাছে ইতিবাচক হিসাবেই প্রশংসিত হবে।

এদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশী নাগরিকদের ভ্রমণে সরকার ১১ দফা নির্দেশনা জারী করে। এ নিয়ে চিহ্নিত কিছু গণমাধ্যম ও সমালোচক উচ্চবাচ্য করে তা বাতিলের দাবী জানালে সরকার তাতে কিছু লঘু সংস্কার আনে। তবে দেশের আপামর জনসাধারণ সরকারের ওই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে গ্রহণ করেছিল।