অমানবিকভাবে সম্মানী ভাতা বন্ধ মহালছড়ির ১০ মুক্তিযোদ্ধার


unnamed-1-copy

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অজ্ঞাত কারণে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রায় এক বছর ধরে সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না । ভাতার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা মাসের পর মাস  ঘুরছেন উপজেলা, জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের টেবিলে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।

১৯৭১-এর  মহান মুক্তিযুদ্ধে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে  রয়েছে বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস। সম্মূখ যুদ্ধে মহালছড়িতে শহীদ হয়েছিলেন, অসীম সাহসী ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের। নিখোঁজ হয়েছেন বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। যাদের সন্ধান এখনও পান নি স্বজনরা।

দেশ স্বাধীনের পর থেকে মহালছড়ি উপজেলার ২৫ মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘ  ভাতা পেয়ে আসলেও একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ায় সংখ্যা নেমে আসে ২৪। কিন্তু  অজ্ঞাত কারণে গত জানুয়ারী মাস থেকে ১০ বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি মাসে জন প্রতি ১০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয় নি। ফলে এ নিয়ে বিক্ষুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের রয়েছে নানা ক্ষোভ।

মুক্তিযোদ্ধা মো: শাহ জাহান পাটোয়ারী  বলেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গত ১০ মাস ভাতা পাচ্ছেন না তারা। নামে ভাতা বন্ধ না করে সংখ্যায় বন্ধ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদও বিপাকে পড়েছে। এখন ১৪ জনের ভাতা পর্যায়ক্রমে ২৪ জনের মধ্যে বন্টন করা হচ্ছে। তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, এটি বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা নয়, এটি আমাদের সম্মানী ভাতা। ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা অপমান বোধ করছি।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সাহেব মিয়ার ছেলে মো:  জসিম উদ্দিন বলেন, তারা ভাতা নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন। ইউএনও অফিসে গেলে বলা হয় ডিসি অফিসে যাও, ডিসির  অফিসে গেলে বলা হয় মন্ত্রণালয়ে যাও। এভাবে এক বছর পার হয়ে গেছে।

মহালছড়ি উপজেলা  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চাহ্লাপ্রু চৌধুরী ভাতা বন্ধ হওয়ার জন্য  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে দায়ী করে বলেন, তার  ভুলের কারণে মুক্তিযোদ্ধারা গত প্রায় এক বছর ধরে তাদের সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিলেও কোন ফল পান নি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কারণটা তার জানা নেই।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান,  বলেন তিনি এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি আশা করেন শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।

অপর দিকে জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে  ‘অমানবিক’ আখ্যায়িত করে শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করেন।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ১০ মুক্তিযোদ্ধা দ্রুত বকেয়াসহ তাদের সম্মানী ভাতা পাবেন এ প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *