অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে


লংগদু প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ’র ভাষণ এক ঐতিহাসিক ভাষণ। এটা শুধু আমাদের ইতিহাস তা নয় এটি এখন সারা বিশ্বের ইতিহাস। এই ভাষণ উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের  সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

বুধবার রাঙামাটির লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বৃহত্তর বাণিজ্যিক কেন্দ্র মাইনীমুখ বাজারে ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৭ মার্চ সে সময় সাহসিকতার সহিত বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ আর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তখন শুধু বাংলাদেশের নয় ঐতিহাসিক হিসেবে সারা বিশ্বেও স্বীকৃতি পেয়েছে জানিয়ে ৭ মার্চের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাইনীমুখ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজ্বী মো. কামাল উদ্দিন, জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল হক, জেলা পরিষদের সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুল আলম, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর চাকমা।

আলোচনা সভায় লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. সরোয়ার আলমের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. জানে আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবলীগের সভাপতি ছাওয়াল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল, মাইনীমুখ ইউপি আ’লীগের সভাপতি আব্দুল আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াউল জিয়া, শহিদুল ইসলাম, মো. আলমগীর হোসেন। এছাড়া রাঙামাটি পৌর  মহিলালীগের সভাপতি জয়শ্রী দে জয়া, রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

দীপকংর তালুকদার বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের সৃষ্ট দল বিএনপি ৭ মার্চের গুরুত্ব বুঝেননা। তাই, তারা একটার পর একটা মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, মেজর জিয়া বেঁচে থাকাকালিন, তখন তিনি একটি আর্টিকেলে লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ তারিখের ভাষণ আমাদের জন্য চির অনুপ্রেরণা। দেশ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার স্বাধীনতার ঘোষণা অনুসারে আমরা মুক্তিযোদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি।

জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে তার দল বিএনপি তা অস্বীকার করে আসছে।  তারা ৭ মার্চের ঘোষণাকে বিকৃতি করতে চাইছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের জাতীয় ইতিহাস বিকৃত করার জন্য তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে জানিয়ে বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসীদের মদদ দাতা। তারা ড. জাফর ইকবালের হামলার দায় আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে।

দীপংকর তালুকদার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপি পার্বত্য শান্তির চুক্তি নিয়েও নানা কথা বলেছিল অনেক ষড়যন্ত্র করেছে। পাহাড়ে বাঙালীরা হরতাল করে আর পিসিপির ছেলেরা পিকিটিং করে। নির্বাচনের সময় দীপেন দেওয়ান উষাতন বাবুর হাতীর পক্ষে ভোট চাইছে। একদিন যারা এই এলাকার জনগণকে নিয়ে বিভ্রান্ত করেছে তারাই এখন জনসংহতির পয়সায় দুধ খাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তিন জেলায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনগত বিচার  করার জন্য দাবি করছি। এই দাবিকে সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে একবাক্যে সমর্থন করেছে। এখানে আমরাতো কারো নাম বলিনাই। আমরা যখনই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলি সন্তু লারমা তখনই চিৎকার চেচামেচি শুরু করে বলে তাদের হাতে কোন অস্ত্র নাই। সন্তুবাবু আমরাতো আপনার নাম লই নাই। কিন্তু আপনি রেগে উঠেন কেন।

তিনি বলেন, যারা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে এটা কেউ স্বীকার করুক আর না করুক কিছু যায় আসেনা। কাদের হাতে অবৈধ অস্ত্র আছে এটা সাধারণ মানুষ জানে। যখন সাধারণ মানুষ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে তখন বিএনপি চুপচাপ।

এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে। তাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে ব্যালট। তাই আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে প্রমান করতে হবে। বিএনপির ধাপ্পাবাজিতে আর পরাজিত হবেন না। পরিশেষে পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য তিনি সকলের কাছে নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *