অবশেষে রাঙ্গামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হস্তান্তর


রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:

অবশেষে পার্বত্যবাসীর বহুল প্রত্যাশার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভবন তৈরি হতে যাচ্ছে। যে কোন দিন ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অচিরেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এটি শেখ হাসিনারই অবদান। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান অধিগ্রহণকৃত ভূমিস্বত্ব গ্রহণ করার সময় এসব কথা বলেন।

শনিবার (৪ নভেম্বর ) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অধিগ্রহণ করা ভূমিস্বত্ত্ব হস্তান্তর করেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

এ সময় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. মানিক লাল দেওয়ান, ডা. একে দেওয়ানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, দিনটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয়, ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিন আমরা হয়ত কেউ থাকব না, কিন্তু দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে রয়ে যাবে।

তিনি বলেন, রাঙ্গামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার অবদান। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রথমে ১৯৯৬ সালে পরিকল্পনা করেন। সেই সময় জায়গা নির্বাচনসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসলে সঙ্গে সঙ্গে প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই মধ্যে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করে বর্তমানে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। এখন জমি অধিগ্রহণ শেষ। অচিরেই এ বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

সামনে যে কোনো একদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরেজমিনে এসে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই মানসম্মত হয়ে উঠবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ২০০৮ সালের নভেম্বরে রাঙামাটি সদরের ঝগড়াবিল মৌজায় জায়গা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে অধিগ্রহণ করা প্রায় ৬৪ একর জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের নগদ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অধিগ্রহণ করা জমির মধ্যে ২৫ মালিকের ১০৭ হোল্ডিং রয়েছে।

আমরা এ মাসেই জমির ডিজিটাল সার্ভে শেষ করে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করতে চাই। আগামী ২০১৮ সালের জুনের পরেই যাতে আমরা সেখানে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি, সেজন্য দ্রুত নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হবে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বর্তমান অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *