ব্যাপক ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের ডাকা অবরোধ পালিত হচ্ছে


নিজস্ব প্রতিবেদক:(আপডেইট)
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন সংগঠনের ডাকে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলছে। এসব ঘটনায় মাসুদ নামে এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারসহ চার জন আহত হয়েছে। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে একাধিক গাড়িতে। মারধোর করা হয়েছে যাত্রী ও চালককে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা পৌনে ১২টার দিকে পিকেটাররা খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিসংযোগ করলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাসুদসহ তিনজন আহত হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে পুরো প্রাইভেট কারটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার নয়ন ময় ত্রিপুরা জানান, আহত মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মাসুদসহ তিন জনকে প্রথমে দর হাসপাতালে পুলিশ নিয়ে আসলেও পরে তাদের খাগড়াছড়ি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাটিরাঙা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলুটিলার রিছাং ঝর্ণা এলাকায় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বুধবার অবরোধ চলাকালে সকাল পৌনে দশটার দিকে মাটিরাঙার সাপমারা সেগুন বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই মাটিরাঙা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইউপিডিএফ কর্মীদের জ্বালিয়ে দেয়া মোটর সাইকেল ও মোটর সাইকেল চালক সাবেক মেম্বার প্রবীণ কুমার ত্রিপুরাকে উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাটিরাঙা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মো. জাকির হোসেন জ্বালিয়ে দেয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পার্বত্যনিউজের গুইমারা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বুধবার সকালে গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়িতে টহলরত পুলিশ পৌঁছালে ইউপিডিএফের সদস্যরা মারবেল দিয়ে পুলিশকে লক্ষ করে গুলতি মারে। গুলতির আঘাতে গুইমারা থানার পুলিশ উত্তম কুমারের কপাল সামান্য ফেটে যায়।

এনিয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া করলে অবরোধকারী ইউপিডিএফ সদস্যদের পালিয়ে যায়। এছাড়াও গুইমারা রামছু বাজার রাস্তার মূখে সকালে অবরোধকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের ডাল ফেলে রাস্তায় অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তা প্রতিহত করে।

এদিকে অবরোধের সমর্থনে গুইমারার হাতিমুড়ায় অবরোধ কারীরা গাড়ি ভাংচুর করার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়।

এসকল বিষয়ে গুইমারা থানা অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটু বলেন, বাইল্যছড়িতে অবরোধকারীরা দূর থেকে লক্ষ করে আমাদের পুলিশের উপর গুলিত মারে এতে আমাদের এক পুলিশ সদস্য সামান্য আঘাত পান। পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করলে তারা রাস্তা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোন ধরনের নাশকতা তারা করার সুযোগ পায়নি। কারন গুইমারার সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমাদের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পার্বত্যনিউজের মানিকছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন,  অবরোধ শুরুর আগে সকাল পৌনে ৬টার দিকে জেলার মানিকছড়ির কর্মসূচী চলাকালে সড়ক অবরোধকারীরা আজ সকাল মানিকছড়ি জামতলা (পিচলাতলা) এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা বিআরটিসির চট্টমেট্টো-ট ১১-১৩৫২ ট্রাক গাড়ীটি ভাংচুর করেন পিকেটাররা। এ ঘটনায় আহত হয় গাড়ীর চালক ড্রাইভার মোঃ আবুল কাশেম(৪৫)।

তিনি জানান, গাড়ী নিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্যেশ্যে রওনা হলে জামতলা(পিচলাতলা) এলাকায় তার গাড়ীতে ইট মারতে থাকে। এসময় গাড়ী দাঁড় করালে তাকে মারধর ও গাড়ীটি সম্পূন্ন ভেঙ্গে ফেলে। আহত ড্রাইভার মানিকছড়ি হাসপাতালে চিকিৎসারত আছে।

মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ জানান, ট্রাকটি চট্টগ্রাম থেকে চাউল নিয়ে খাগড়াছড়ি আসার পথে ঐ স্থানে হামলার শিকার হয়।

এদিকে লক্ষীছড়ি জোন সদর হতে ৬ কিঃমিঃ পশ্চিমে মংহ্লাপাড়া নামক স্থানে রাস্তার উপরে অবরোধকারীরা টায়ারে আগুন দেয় এবং ১ টি জীপ গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে দেয়।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দিন বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়া সোনা চাকমার মুক্তি দাবীতে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন সংগঠন এ সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। সকাল থেকে অবরোধের সমর্থনে বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ¦ালিয়ে ও গাছ ফেলে পিকেটিং করতে দেখা গেছে ইউপিডিএফ’র নেতাকর্মীদের।

অবরোধের কারণে সকালে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৈশ কোচগুলো শহরে প্রবেশ করলেও জেলার আভ্যন্তীরন ও দুর পাল্লা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে।

গত রোববার (১৮ মার্চ) রাঙামাটি সদর উপজেলার কুদুকছড়ির আবাসিক এলাকা থেকে এ দুই নারী নেত্রীকে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের রাঙামাটি জেলা আহ্ববায়ক ধর্মশিং চাকমা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রসীত খীসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ সমর্থিত তিন সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন যৌথভাবে এ এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপ দুই নারী নেত্রীকে অপহরণের ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকের নেতৃত্বকে দায়ী করলেও ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিকের আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ও সদস্য সচিব জলেয়া চাকমা তরু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রসীতের ইউপিডিএফ’র আভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *